ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউনিফর্মে মণ্ডপে গান গাওয়ায় প্রত্যাহার এসআই উদয়ন সকলের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক নাটোরের লালপুরে গাঁজা গাছসহ আটক এক জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল বন্ধ, বিপাকে গরিব রোগীরা রুটস ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত তালিকায় দা নাং বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয়ের মুখে ট্রাম্প ভালুকায় অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার তিন মাগুরায় পৌর যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, ঘটনাস্থলে পুলিশ ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের

রৌমারী-চিলমারী রুটে ফেরি পারাপার বন্ধ

  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / 69
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

জেলার রৌমারী-চিলমারী নৌরুটে ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছে। ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে সেবার অনিশ্চয়তা নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চালুর পর ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৪ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে ৯৭ দিন। এ সময়ে পারাপার হয়েছে ২ হাজার ৮৮৫টি গাড়ি।

২০২৪ সালে ৩৬৬ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে ২৪১ দিন, বন্ধ ছিল ১২৫ দিন। পারাপার হয়েছে ৬ হাজার ৫৬২টি গাড়ি। তবে ২০২৫ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৮ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে মাত্র ৬৮ দিন; পারাপার হয়েছে ২ হাজার ২৫০টি গাড়ি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমার-রৌমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) নুরন্নবী সরকার বাসস’কে বলেছেন, পরিবহনের চাপ ও চাহিদা বিবেচনায় শুকনো মৌসুমে ড্রেজিং জোরদার করলে কমপক্ষে চারটি ফেরি প্রয়োজন হবে। সারাবছর সার্ভিস সচল রাখা সম্ভব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের কারণে রুটটি লাভজনকও হতে পারে। ফেরি সচল হলে কম ড্রাফটের ফেরি নিয়োগের আশ্বাস রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাব্যতা রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগের অভাব রয়েছে। সময়মতো ড্রেজিং ও সঠিক চ্যানেল নির্ধারণ না করায় প্রতিবছর একই সংকট তৈরি হচ্ছে।

কাগজে-কলমে কাজ দেখালেও বাস্তবে কার্যকর খনন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

চিলমারী রমনা ঘাটের হোটেল মালিক রমজান আলী বলেন, ‘ফেরি চালু থাকলে বিভিন্ন এলাকার যানবাহন ও মানুষজন আসত। তখন ব্যবসাও ভালো হতো।’

ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রী ও পরিবহন মালিকদের নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং বেশি ভাড়া আদায় নিয়ে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা চলছে।

এদিকে, নাব্যতা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি করেছে, নদীর স্বাভাবিক গতি প্রকৃতি ও চর জেগে ওঠার কারণে নাব্যতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সমির পাল জানান, প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ড্রেজিং করে প্রায় ৪০ মিটার খনন করা হচ্ছে। তবে আগামী এপ্রিল বা মে মাসের আগে ফেরি চালু সম্ভব নয়।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রৌমারী-চিলমারী রুটে ফেরি পারাপার বন্ধ

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

জেলার রৌমারী-চিলমারী নৌরুটে ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছে। ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে সেবার অনিশ্চয়তা নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চালুর পর ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৪ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে ৯৭ দিন। এ সময়ে পারাপার হয়েছে ২ হাজার ৮৮৫টি গাড়ি।

২০২৪ সালে ৩৬৬ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে ২৪১ দিন, বন্ধ ছিল ১২৫ দিন। পারাপার হয়েছে ৬ হাজার ৫৬২টি গাড়ি। তবে ২০২৫ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৮ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে মাত্র ৬৮ দিন; পারাপার হয়েছে ২ হাজার ২৫০টি গাড়ি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমার-রৌমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) নুরন্নবী সরকার বাসস’কে বলেছেন, পরিবহনের চাপ ও চাহিদা বিবেচনায় শুকনো মৌসুমে ড্রেজিং জোরদার করলে কমপক্ষে চারটি ফেরি প্রয়োজন হবে। সারাবছর সার্ভিস সচল রাখা সম্ভব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের কারণে রুটটি লাভজনকও হতে পারে। ফেরি সচল হলে কম ড্রাফটের ফেরি নিয়োগের আশ্বাস রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাব্যতা রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগের অভাব রয়েছে। সময়মতো ড্রেজিং ও সঠিক চ্যানেল নির্ধারণ না করায় প্রতিবছর একই সংকট তৈরি হচ্ছে।

কাগজে-কলমে কাজ দেখালেও বাস্তবে কার্যকর খনন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

চিলমারী রমনা ঘাটের হোটেল মালিক রমজান আলী বলেন, ‘ফেরি চালু থাকলে বিভিন্ন এলাকার যানবাহন ও মানুষজন আসত। তখন ব্যবসাও ভালো হতো।’

ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রী ও পরিবহন মালিকদের নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এবং বেশি ভাড়া আদায় নিয়ে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা চলছে।

এদিকে, নাব্যতা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি করেছে, নদীর স্বাভাবিক গতি প্রকৃতি ও চর জেগে ওঠার কারণে নাব্যতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সমির পাল জানান, প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ড্রেজিং করে প্রায় ৪০ মিটার খনন করা হচ্ছে। তবে আগামী এপ্রিল বা মে মাসের আগে ফেরি চালু সম্ভব নয়।
বিডিসংবাদ/এএইচএস