ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই বছরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়বে ইউজিসি নেত্রকোণায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ মামলার অগ্রগতি ফাঁকা শাহজালাল বিমানবন্দর: সৌদি রুটে ফ্লাইট বন্ধে বদলেছে চিত্র দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার এখন ঋণগ্রস্ত, বলছে নতুন জরিপ ঝিনাইদহে সারের ডিলারশিপ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জামায়াতের মানববন্ধন কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দুর্গাপূজা রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা: রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটুট প্রতিশ্রুতি: প্রধানমন্ত্রী রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের নির্দেশ হাইকোর্টের ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্কে এএবিইএ-এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলন

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১০

  • আপডেট সময় : ১২:৩১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • / 34
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

আবারও লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আজ শনিবার এ হামলা চালানোর আগে পৃথক আরেকটি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে বৈরুতের সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

নতুন হামলাগুলো সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি এলাকা লক্ষ্য করে করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাতের কিছু আগে দক্ষিণ লেবাননের ব্রিতাল এলাকার পার্বত্য নাবি স্রেইজ অঞ্চলে পাঁচটি বিমান হামলা চালানো হয়। এই এলাকাটি গত ১৭ এপ্রিল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।

দক্ষিণ শহর টাইরের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

একটি বিস্ফোরণ শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে আঘাত হানে, এরপর শহরের ভেতরেও আরেকটি হামলা হয়। হামলার আগে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয় পুলিশ মাইকিং করে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরব ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ি মাধ্যমে দুটি সতর্কবার্তা জারি করে। একটিতে দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রহাল গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে যেতে বলা হয়, কারণ সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানানো হয়।

আরেক সতর্কবার্তায় টাইরের দুইটি এলাকার মানুষকে সরে যেতে বলা হয়, কারণ ওই এলাকাগুলোকে হিজবুল্লাহর ঘাঁটির কাছাকাছি বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অভিযান চালাতে পারে। এই হামলা ও পাল্টা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল এবং লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন উদ্ধারকর্মী এবং একজন শিশু রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের কাছে ডেইর কানুন আল-নাহর গ্রামে হামলায় দুইজন উদ্ধারকর্মী ও একটি সিরীয় মেয়ে নিহত হন।

এই উদ্ধারকর্মীরা রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশন-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা আমাল আন্দোলন-এর ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হানাওয়াইয়ে আরেকটি হামলায় আরও চারজন উদ্ধারকর্মী নিহত হন। তারা ইসলামি হেলথ কমিটি-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এটি হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি সংস্থা।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সীমান্তের কাছে তারা দুইজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে সশস্ত্র অবস্থায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডের কাছাকাছি চলছিল। পরে নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের পর বিমান হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে লেবাননের ভেতরে এবং উত্তর ইসরায়েলে বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।

সংগঠনটির সংসদীয় ব্লকের প্রধান মোহাম্মদ রাদ এক বার্তায় বলেছেন, তাদের যোদ্ধাদের শক্তি ও সাহসের কারণে শত্রুরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং প্রতিশোধ হিসেবে লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংস করছে ও মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে। তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত ৯ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা লেবাননের শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর মধ্যে দুইজন লেবাননের সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা গোষ্ঠীটির সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা, ধ্বংস অভিযান এবং লোকজনকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালাচ্ছে, আর সংগঠনটিও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাতের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে। এটি ইরানের এক শীর্ষ নেতার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়।

এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালায়। সেখানে ইসরায়েলি সেনারা সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে একটি ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় অবস্থান করছে।

দলেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বড় আকারের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের ২২ জন সেনা নিহত হয়েছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের তৃতীয় দফা সরাসরি আলোচনার পর ৪৫ দিনের জন্য একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১০

আপডেট সময় : ১২:৩১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

আবারও লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আজ শনিবার এ হামলা চালানোর আগে পৃথক আরেকটি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে বৈরুতের সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

নতুন হামলাগুলো সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি এলাকা লক্ষ্য করে করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাতের কিছু আগে দক্ষিণ লেবাননের ব্রিতাল এলাকার পার্বত্য নাবি স্রেইজ অঞ্চলে পাঁচটি বিমান হামলা চালানো হয়। এই এলাকাটি গত ১৭ এপ্রিল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।

দক্ষিণ শহর টাইরের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

একটি বিস্ফোরণ শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে আঘাত হানে, এরপর শহরের ভেতরেও আরেকটি হামলা হয়। হামলার আগে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয় পুলিশ মাইকিং করে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরব ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ি মাধ্যমে দুটি সতর্কবার্তা জারি করে। একটিতে দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রহাল গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে যেতে বলা হয়, কারণ সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানানো হয়।

আরেক সতর্কবার্তায় টাইরের দুইটি এলাকার মানুষকে সরে যেতে বলা হয়, কারণ ওই এলাকাগুলোকে হিজবুল্লাহর ঘাঁটির কাছাকাছি বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অভিযান চালাতে পারে। এই হামলা ও পাল্টা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল এবং লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন উদ্ধারকর্মী এবং একজন শিশু রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের কাছে ডেইর কানুন আল-নাহর গ্রামে হামলায় দুইজন উদ্ধারকর্মী ও একটি সিরীয় মেয়ে নিহত হন।

এই উদ্ধারকর্মীরা রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশন-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা আমাল আন্দোলন-এর ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হানাওয়াইয়ে আরেকটি হামলায় আরও চারজন উদ্ধারকর্মী নিহত হন। তারা ইসলামি হেলথ কমিটি-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এটি হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি সংস্থা।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সীমান্তের কাছে তারা দুইজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে সশস্ত্র অবস্থায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডের কাছাকাছি চলছিল। পরে নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের পর বিমান হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে লেবাননের ভেতরে এবং উত্তর ইসরায়েলে বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।

সংগঠনটির সংসদীয় ব্লকের প্রধান মোহাম্মদ রাদ এক বার্তায় বলেছেন, তাদের যোদ্ধাদের শক্তি ও সাহসের কারণে শত্রুরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং প্রতিশোধ হিসেবে লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংস করছে ও মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে। তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত ৯ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা লেবাননের শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর মধ্যে দুইজন লেবাননের সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা গোষ্ঠীটির সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা, ধ্বংস অভিযান এবং লোকজনকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালাচ্ছে, আর সংগঠনটিও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাতের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে। এটি ইরানের এক শীর্ষ নেতার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়।

এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালায়। সেখানে ইসরায়েলি সেনারা সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে একটি ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় অবস্থান করছে।

দলেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বড় আকারের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের ২২ জন সেনা নিহত হয়েছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের তৃতীয় দফা সরাসরি আলোচনার পর ৪৫ দিনের জন্য একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস