ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরান সংঘাতের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

  • আপডেট সময় : ১০:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট আকাশপথের অস্থিরতা ও সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার পার্শ্ববর্তী এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি জানিয়েছেন কাতার এয়ারওয়েজের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা হামাদ আলী আল-খাতের। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ফ্লাইটগুলোতে যাত্রী আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশের বেশি।

আল-খাতের জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর কাতার নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল, যা তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। ওই পরিস্থিতির কারণে মার্চের শুরু পর্যন্ত অন্তত চারটি ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল এয়ারলাইনটিকে। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটা স্বাভাবিক এবং যাত্রীদের চাহিদাও প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। সাক্ষাৎকারের ঠিক পাঁচ দিন আগে থেকেই এয়ারলাইনটির বিভিন্ন রুটে আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

দীর্ঘপথের ফ্লাইটগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপগামী রুটে যাত্রী চাহিদা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আফ্রিকা অঞ্চলের আকাশপথেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলো বাদে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে কাতার এয়ারওয়েজের যাত্রী চাহিদা বর্তমানে বেশ শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই অনিশ্চিত সময়ে কর্মীদের কর্মসংস্থান বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আল-খাতের।

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় কাতার এয়ারওয়েজ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। ১৬৬টি গন্তব্যের প্রতিটি স্টেশন থেকে জ্বালানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় এয়ারলাইনটি প্রস্তুত। তবে জ্বালানির উচ্চমূল্য এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে টিকিটের দাম সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের বহর সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রেখেছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২১০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের অর্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া আগামী অক্টোবর নাগাদ এয়ারবাসের এ৩২১ লং রেঞ্জ সিরিজের নতুন উড়োজাহাজ তাদের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দীর্ঘপথের রুটে উচ্চ কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ এবং নতুন প্রজন্মের কিউ-স্যুট কেবিন চালুর মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে এয়ারলাইনটির। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর কাতার নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটি আধুনিক ইতিহাসে কাতার এয়ারওয়েজের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও এখনো যুদ্ধের আগের পর্যায়ের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে যেতে পারেনি এয়ারলাইনসটি, তবে যাত্রী চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব উড়োজাহাজ সরু দেহের বিমানের দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘপথে উড্ডয়নের সক্ষমতা দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে বহরের বেশিরভাগ উড়োজাহাজে ইতোমধ্যে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান সংঘাতের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

আপডেট সময় : ১০:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট আকাশপথের অস্থিরতা ও সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার পার্শ্ববর্তী এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি জানিয়েছেন কাতার এয়ারওয়েজের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা হামাদ আলী আল-খাতের। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ফ্লাইটগুলোতে যাত্রী আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশের বেশি।

আল-খাতের জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর কাতার নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল, যা তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। ওই পরিস্থিতির কারণে মার্চের শুরু পর্যন্ত অন্তত চারটি ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল এয়ারলাইনটিকে। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটা স্বাভাবিক এবং যাত্রীদের চাহিদাও প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। সাক্ষাৎকারের ঠিক পাঁচ দিন আগে থেকেই এয়ারলাইনটির বিভিন্ন রুটে আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

দীর্ঘপথের ফ্লাইটগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপগামী রুটে যাত্রী চাহিদা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আফ্রিকা অঞ্চলের আকাশপথেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলো বাদে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে কাতার এয়ারওয়েজের যাত্রী চাহিদা বর্তমানে বেশ শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই অনিশ্চিত সময়ে কর্মীদের কর্মসংস্থান বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আল-খাতের।

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় কাতার এয়ারওয়েজ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। ১৬৬টি গন্তব্যের প্রতিটি স্টেশন থেকে জ্বালানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় এয়ারলাইনটি প্রস্তুত। তবে জ্বালানির উচ্চমূল্য এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে টিকিটের দাম সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের বহর সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রেখেছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২১০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের অর্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া আগামী অক্টোবর নাগাদ এয়ারবাসের এ৩২১ লং রেঞ্জ সিরিজের নতুন উড়োজাহাজ তাদের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দীর্ঘপথের রুটে উচ্চ কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ এবং নতুন প্রজন্মের কিউ-স্যুট কেবিন চালুর মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে এয়ারলাইনটির। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর কাতার নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটি আধুনিক ইতিহাসে কাতার এয়ারওয়েজের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও এখনো যুদ্ধের আগের পর্যায়ের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে যেতে পারেনি এয়ারলাইনসটি, তবে যাত্রী চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব উড়োজাহাজ সরু দেহের বিমানের দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘপথে উড্ডয়নের সক্ষমতা দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে বহরের বেশিরভাগ উড়োজাহাজে ইতোমধ্যে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়েছে।