যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে ভিয়েতজেট
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
ভিয়েতনামের বিমান সংস্থা ভিয়েতজেট বর্তমানে কেবল ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বব্যাপী নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও অংশীদারিত্বের পরিধি বিস্তৃত করছে। ‘হ্যালো আমেরিকা’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সংস্থাটি অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পুঁজি বিনিয়োগ ও জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভিয়েতনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বেগবান করা।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভিয়েতজেটের চেয়ারম্যান ড. নগুয়েন থি ফুয়ং থাওয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল হো চি মিন সিটি থেকে বিশেষ ফ্লাইটযোগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। এই সফরের সময় তিনি তৎকালীন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন কৌশলগত অংশীদারের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন, যেখানে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
বিমান শিল্পে ভিয়েতজেটের বৈশ্বিক এই যাত্রার ভিত্তি তৈরি হয়েছে বোয়িংয়ের সাথে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে। ২০১৬ সালে ১০০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তি দিয়ে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক ২০১৯ সালে ২০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের চুক্তিতে রূপ নেয়। এছাড়া জিই, প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি, হানিওয়েল ও গুগলের মতো প্রযুক্তি ও ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সংস্থাটি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এমনকি স্পেসএক্সের সঙ্গে উড়োজাহাজে উন্নত সংযোগ প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং নির্গমন হ্রাসকারী প্রযুক্তি নিয়েও ভিয়েতজেট কাজ করছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের সুবাদে ভিয়েতনামকে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
নিউইয়র্কের পুঁজিবাজারেও ভিয়েতজেটের পদচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ড. নগুয়েন থি ফুয়ং থাও নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার চেয়ারম্যান লিন মার্টিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। স্টক এক্সচেঞ্জের সমাপনী ঘণ্টা বাজানোর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভিয়েতনামের ব্যবসাকে তুলে ধরার পাশাপাশি বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জোরালো বার্তা দিয়েছেন। মূলত সংস্কৃতি, প্রযুক্তি এবং পুঁজির মেলবন্ধনের মাধ্যমে একটি টেকসই বৈশ্বিক ব্যবসায়িক কাঠামো দাঁড় করানোর লক্ষ্যেই ভিয়েতজেট কাজ করে যাচ্ছে।

























