গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তুলল টিআইবি
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 17
কিশোরী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক, তাকে সংসদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, তার বাবাকে সরকারি ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন এবং পরবর্তীতে তাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করার মতো গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এর ওপর মরিয়মের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। এতকিছুর পরও একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি কীভাবে বহাল আছেন, তা নিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় টিআইবি জানিয়েছে, মরিয়মের মৃত্যু এবং এর আগের সেক্সটরশন বা যৌন ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত হওয়া জরুরি। একইসঙ্গে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকার ফলে সংসদের যে মর্যাদাহানিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না ঠিকই, কিন্তু দলের বিপক্ষে ভোট না দেয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, সংসদ ও সদস্যদের জন্য এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির দায়ভার বহন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে ড. ইফতেখারুজ্জামান ব্যাখ্যা করেন যে, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে তবেই একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন। সে অনুযায়ী বর্তমান গ্রেপ্তার, রিমান্ড বা দলীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত সরাসরি গাজী নজরুলের সাংবিধানিক অযোগ্যতা তৈরি করে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনের এই সীমাবদ্ধতাকে নৈতিক স্খলনের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করার সংস্কৃতি থেকে সংসদকে রক্ষা করতে হবে।
টিআইবি দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষায়িত ও বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে, যা এই ইস্যুতে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত, কিংবা সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন আচরণের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে আসন শূন্য হবে, তা আইনি বিধানে আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সবশেষে, গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সেক্সটরশনের মতো প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
























