ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, শিমের কেজি ২০০ টাকা তিন মাসে দ্বিগুণ হলো এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজ বহর নেতানিয়াহুকে সমর্থন নেই ট্রাম্পের, ইরান ইস্যুতে দিলেন কড়া বার্তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি মেট্রো রেলের দুই লাইন নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকা

২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি: পিডিবি প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (৩) মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত দপ্তরাদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) নম্বর বিধির অধীনে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। ভিডিওতে প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে উৎকোচ দাবি করতে দেখা গেছে, যা সরকারি চাকরির বিধিবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন। এই বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, ‘উক্ত বিধিমালার ১৪১ (১) নং বিধি অনুসারে জনাব মো. নুরুল আমিনকে বিউবো’র চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। তবে ওইসব ব্যক্তিদের মুখ দেখা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।’ কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাকে এসি স্যারের প্রসঙ্গ টেনে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে দেখা যায়, ‘আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলেও যাবো।’ ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে।

ভিডিওর কথোপকথনে দুর্নীতির বড় অংকের হিসাবও উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেন, ‘সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার কাজে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকার। হিসেব করলে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে।’ একই ভিডিওতে তাকে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতেও দেখা যায়। সেখানে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি জানতে চান, ‘এখানে কত?’ জবাবে অপর পক্ষ বলে, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ তখন নুরুল আমিন ‘এক লাখ ৩৫’ বলে নিশ্চিত হন এবং ওই ব্যক্তি জানান, ‘আগে ১ লাখ দিয়েছি স্যার।’ এই অডিও-ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এই প্রকৌশলী।

নিউজটি শেয়ার করুন

২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি: পিডিবি প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (৩) মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত দপ্তরাদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) নম্বর বিধির অধীনে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। ভিডিওতে প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে উৎকোচ দাবি করতে দেখা গেছে, যা সরকারি চাকরির বিধিবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন। এই বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, ‘উক্ত বিধিমালার ১৪১ (১) নং বিধি অনুসারে জনাব মো. নুরুল আমিনকে বিউবো’র চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। তবে ওইসব ব্যক্তিদের মুখ দেখা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।’ কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাকে এসি স্যারের প্রসঙ্গ টেনে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে দেখা যায়, ‘আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলেও যাবো।’ ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে।

ভিডিওর কথোপকথনে দুর্নীতির বড় অংকের হিসাবও উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেন, ‘সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার কাজে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকার। হিসেব করলে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে।’ একই ভিডিওতে তাকে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতেও দেখা যায়। সেখানে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি জানতে চান, ‘এখানে কত?’ জবাবে অপর পক্ষ বলে, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ তখন নুরুল আমিন ‘এক লাখ ৩৫’ বলে নিশ্চিত হন এবং ওই ব্যক্তি জানান, ‘আগে ১ লাখ দিয়েছি স্যার।’ এই অডিও-ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এই প্রকৌশলী।