ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি সামরিক অভিযান
- আপডেট সময় : ১০:২৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি সেনাবাহিনী দেশটিতে হুথিদের লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। এসব ব্যাপক অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ হুথি সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র। এছাড়াও, অভিযানে হুথিদের ২১৬টি সামরিক যান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকারি বাহিনীর দেওয়া এই হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিশাল পরিসংখ্যান স্বাধীন কোনো উৎস থেকে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানের বিস্তারিত ও সামরিক কৌশল
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, হুথিদের অবস্থান, সামরিক গতিবিধি, রসদ সরবরাহ ও সামগ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, গোলন্দাজ কামান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে এসব হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সও সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের বরাতে এই বড় ধরনের হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ হারাধ ও উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে কিতাফ, আল-জাওফ, মারিব, আল-বাইদা, লাহিজ, সানা ও সাদা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্রন্টে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এসব অভিযানের ফলে তাইজে হুথিদের অগ্রযাত্রা পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং স্থলভাগে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের তাদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। হুথিদের পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন বুধবারও সেনাবাহিনী তিনটি ফ্রন্টে হুথি যোদ্ধা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ৪৬৮টি অভিযান চালিয়েছিল, যাতে শত শত হুথি সদস্য হতাহত হন।
ইয়েমেনের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রেক্ষাপট
- ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়।
- ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
- ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও চলতি বছরের জুলাই থেকে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে।




















