ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

মানিকছড়িতে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার অনিয়ম তুঙ্গে

  • আপডেট সময় : ১২:২৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭
  • / 325
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়িতে অনিয়ম-দুর্নীতি এখন তুঙ্গে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার। কোন নিয়মের ধার ধারেন না তিনি। মো: সাহিদ বিন শরীফ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবী করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হয়ে নিজেকে একজন রাজনীতিবিদের ভুমিকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে গেলেও যেন দেখার কেউ নেই। এছাড়াও ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় স্থানীয় এক গ্রাহককে লোন না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকছড়ি উপজেলায় এক ব্যক্তির জায়গার কাগজপত্র দিয়ে অন্য লোন দেয়া। চুক্তি ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা খাটানো,ব্যাংকের টাকা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা,স্বজনপ্রীতি, নিজের মৎস চাষ প্রকল্পের কর্মচারীকে নিজ প্রভাবে অন্যের জায়গার কাগজপত্র কৌশলে নিয়ে লোন দেওয়াসহ রয়েছে নানা অভিযোগ।

শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের টেলিফোন ব্যবহার করে এ ব্যাংক কর্মকর্তা ঘন্টার পর ঘন্টা নিজের ব্যবসায়ীক আলাপ করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিও সাধন করে চলছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও ব্যাংকে বিভিন্ন বীমার টাকা উত্তোলন করে  প্রতি মাসে প্রতিবেদন ও টাকা প্রেরণের কথা থাকলেও তাও সুদে লাগিয়ে ৬মাসেরও অধিক সময় পর প্রেরণের অভিযোগ উঠেছে। ফলে হয়রানীর শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা।

সম্প্রতি মানিকছড়ি উপজেলাধীন তিনট্যহরীতে আবু তালেব নামের এক ব্যক্তির পুর্বের একটি লোন ছিল কিন্তু তা পরিশোধ করে সে। পরে তার স্বজনদের জানিয়ে আবারো লোন নেওয়ার কথা থাকলেও কৌশলে কাউকে না জানিয়ে গোপনে কাগজ নিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের এক কর্মচারীকে লোন নিয়ে দেন। কাউকে লোন দেওয়ার পূর্বে মাঠ কর্মীদের তদন্তের নিয়ম থাকলেও তদন্ত না করেই ৫শ টাকার বিনিময়ে মাঠ কর্মী সুমনের সহযোগিতায় আবু তালেব নামের এক মানসিক রোগির কাজ থেকে কৌশলে কাগজ নিয়ে ম্যানেজারের নিজের মৎস প্রকল্পের কর্মচারী নাসিরকে ২৫ হাজার টাকা লোন দেয়।

এ বিষয়ে নাছির মুঠোফেনে নাসির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ব্যাংক কর্মকর্তার একটি মাছ চাষ প্রকল্পের কর্মচারী তাই স্যারের আমাকে লোন দিয়ে মাঠ কর্মীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। তবে এ লোন নিতে মানসিক এক রোগির জায়গার কাগজ ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে সেটা ভূল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন। এ জন্য তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করেন। এদিকে মাঠকর্মী সুমনও তদন্ত ছাড়াই ব্যাংক ম্যানেজারের সুপারিশে লোন প্রদানে সহযোগিতা করার বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। এ ঘটনার জন্য তিনি ব্যাংক ম্যানেজারকে দায়ী করেন।

ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এক সপ্তাহের সময় বেঁদে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খাগড়াছড়ি রিজিয়নাল ম্যানেজার নাছির উদ্দিন জাহাঙ্গীর। আগামী ৭ দিনে মধ্যে জায়গার মালিককে কাগজপত্র ফেরত দিতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাংক কর্মকর্তা মো: সাহিদ বিন শরীফ মানিকছড়িতে কর্মরত থাকলে হয়রানী আর দুর্নীতির শিকার হবে সাধারণ মানুষ। তাই এ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী। অন্যতাই সাধারণ মানুষ ব্যাংকের উপর থেকে আস্থা হারানোসহ নানামুখী দুর্ভোগের শিকার হবে বলে মনে করেন সচেতন উপজেলাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মানিকছড়িতে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার অনিয়ম তুঙ্গে

আপডেট সময় : ১২:২৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়িতে অনিয়ম-দুর্নীতি এখন তুঙ্গে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার। কোন নিয়মের ধার ধারেন না তিনি। মো: সাহিদ বিন শরীফ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবী করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হয়ে নিজেকে একজন রাজনীতিবিদের ভুমিকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে গেলেও যেন দেখার কেউ নেই। এছাড়াও ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় স্থানীয় এক গ্রাহককে লোন না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকছড়ি উপজেলায় এক ব্যক্তির জায়গার কাগজপত্র দিয়ে অন্য লোন দেয়া। চুক্তি ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা খাটানো,ব্যাংকের টাকা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা,স্বজনপ্রীতি, নিজের মৎস চাষ প্রকল্পের কর্মচারীকে নিজ প্রভাবে অন্যের জায়গার কাগজপত্র কৌশলে নিয়ে লোন দেওয়াসহ রয়েছে নানা অভিযোগ।

শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের টেলিফোন ব্যবহার করে এ ব্যাংক কর্মকর্তা ঘন্টার পর ঘন্টা নিজের ব্যবসায়ীক আলাপ করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিও সাধন করে চলছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও ব্যাংকে বিভিন্ন বীমার টাকা উত্তোলন করে  প্রতি মাসে প্রতিবেদন ও টাকা প্রেরণের কথা থাকলেও তাও সুদে লাগিয়ে ৬মাসেরও অধিক সময় পর প্রেরণের অভিযোগ উঠেছে। ফলে হয়রানীর শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা।

সম্প্রতি মানিকছড়ি উপজেলাধীন তিনট্যহরীতে আবু তালেব নামের এক ব্যক্তির পুর্বের একটি লোন ছিল কিন্তু তা পরিশোধ করে সে। পরে তার স্বজনদের জানিয়ে আবারো লোন নেওয়ার কথা থাকলেও কৌশলে কাউকে না জানিয়ে গোপনে কাগজ নিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের এক কর্মচারীকে লোন নিয়ে দেন। কাউকে লোন দেওয়ার পূর্বে মাঠ কর্মীদের তদন্তের নিয়ম থাকলেও তদন্ত না করেই ৫শ টাকার বিনিময়ে মাঠ কর্মী সুমনের সহযোগিতায় আবু তালেব নামের এক মানসিক রোগির কাজ থেকে কৌশলে কাগজ নিয়ে ম্যানেজারের নিজের মৎস প্রকল্পের কর্মচারী নাসিরকে ২৫ হাজার টাকা লোন দেয়।

এ বিষয়ে নাছির মুঠোফেনে নাসির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ব্যাংক কর্মকর্তার একটি মাছ চাষ প্রকল্পের কর্মচারী তাই স্যারের আমাকে লোন দিয়ে মাঠ কর্মীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। তবে এ লোন নিতে মানসিক এক রোগির জায়গার কাগজ ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে সেটা ভূল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন। এ জন্য তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করেন। এদিকে মাঠকর্মী সুমনও তদন্ত ছাড়াই ব্যাংক ম্যানেজারের সুপারিশে লোন প্রদানে সহযোগিতা করার বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। এ ঘটনার জন্য তিনি ব্যাংক ম্যানেজারকে দায়ী করেন।

ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এক সপ্তাহের সময় বেঁদে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খাগড়াছড়ি রিজিয়নাল ম্যানেজার নাছির উদ্দিন জাহাঙ্গীর। আগামী ৭ দিনে মধ্যে জায়গার মালিককে কাগজপত্র ফেরত দিতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাংক কর্মকর্তা মো: সাহিদ বিন শরীফ মানিকছড়িতে কর্মরত থাকলে হয়রানী আর দুর্নীতির শিকার হবে সাধারণ মানুষ। তাই এ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী। অন্যতাই সাধারণ মানুষ ব্যাংকের উপর থেকে আস্থা হারানোসহ নানামুখী দুর্ভোগের শিকার হবে বলে মনে করেন সচেতন উপজেলাবাসী।