সিরাজগঞ্জে হাসপাতালে তরুণীকে হেনস্তা, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ওয়ার্ড বয়ের
- আপডেট সময় : ০২:০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার ভোরে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ওই কর্মীর নাম করিম সরকার (২৯)। তিনি উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী হায়দারপুর গ্রামের বাসিন্দা। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি গত শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালটিতে ভর্তি হন। তরুণীর ভাষ্যমতে, শনিবার ভোরে করিম ওয়ার্ডে প্রবেশ করে তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে চান এবং ডেঙ্গু হয়েছে কি না তা জিজ্ঞাসা করেন। কথা বলার ছলে অভিযুক্ত ওই কর্মী তাঁর কপালে, গলায়, পিঠে ও বুকে হাত দিয়ে ‘আপনার প্রচুর জ্বর’ বলে অশালীন আচরণ করেন। তরুণী চিৎকার করে তাঁর মাকে ডাকলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি সাথে সাথে ডিউটিরত নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত করিমের বিরুদ্ধে আগেও এমন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল, যা সে সময় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। বর্তমানে এই ঘটনায় হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বিভাগের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন বলেন, বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন এবং এমন ঘটনায় তাঁরা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হাসপাতালের নারী কর্মীদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনার ঝুঁকি রয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। আমাদের নারী কর্মীদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারত।’।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল মুকিত জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। ঘটনাটিকে তিনি ‘ন্যাক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এছাড়াও ভুক্তভোগীকে আইনগত সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি জরুরি মিটিংয়ে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়াও ভুক্তভোগীকে জানিয়েছি তিনি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারবেন।


























