ড. ইউনূসকে হেনস্তা কেবল শুরু
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
যুক্তরাষ্ট্রের জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। নিউ ইয়র্কের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু এবং সারা বিশ্বেই এমন ঘটনা ঘটতে থাকবে, যতক্ষণ না দেশের মঙ্গল চিন্তা করা হচ্ছে। তার দাবি, ড. ইউনূসের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তার নোবেল বিজয়ী পরিচয় দায়ী নয়, বরং তার বিগত দিনের কর্মকাণ্ডই এর মূল কারণ।
সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে ড. ইউনূস অসাংবিধানিকভাবে সরকার গঠন করেছেন। তিনি দাবি করেন, ড. ইউনূসের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে পুলিশ হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এক লাখেরও বেশি নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো এবং ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ডের কারণেই তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন বলে সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘ওনার (ড. ইউনূস) আজ যে পরিণতি ঘটেছে—এটা কিন্তু উনি যে ড. ইউনূস বা নোবেল লরিয়েট সে জন্য হয়নি।’। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা, আওয়ামী লীগের যারা অনুসারী, উনি যে কর্মকাণ্ডটি গত দু’বছর করেছেন, তার ফল হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ বা অভিনন্দন জানানোর মতো অবস্থা তিনি করেননি। তার নির্দেশে বাংলাদেশের যে বাড়িটাকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর, ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে ছাত্র সংগঠনটি বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে হয়েছিল, সেই ছাত্র সংগঠনকে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
তিনি জানান, তারেক রহমানের সফরসঙ্গীদের ক্ষেত্রে তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সরকার ও দলের বিরুদ্ধে যেসব আক্রোশ বা অভিমান রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার নেই। যারা স্বজন হারিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন বা চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ধরনের ঘটনার অবতারণা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত প্রতিশোধ নয়, বরং পরিস্থিতিগত ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশে শান্তি ফেরাতে হলে সবার সঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে। তোফায়েল আহমেদের মতো নেতাদের জানাজার সুযোগ না দেওয়া বা দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ক্ষোভের শেষ কোথায় তা কারও অজানা নয়। তিনি দাবি করেন, ৫ই আগস্ট পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের জন্য কমিশন তদন্ত করুক, এ বিষয়ে তিনি কোনো ভিন্নমত দেননি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে দলের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া এবং কারাগারে থাকা নেতৃবৃন্দকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত এই অস্থিরতা থামবে না। ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন যে, কার কাছে এবং কেন ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। সবশেষে তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতির সমাপ্তি না ঘটা পর্যন্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন।























