ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনুসন্ধানে সংগৃহীত নথিপত্রে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া যায়।

অবরুদ্ধ হওয়া ব্যাংক হিসাবগুলোতে বর্তমানে মোট ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে। মনিরুল ইসলাম ছাড়াও যাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে, তাদের তালিকায় রয়েছেন তার স্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মোজাম্মিল হোসেনের করা আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মনিরুল ইসলামের ১১টি ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা ও ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী সায়লা ফারজানার ৫টি হিসাবে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার ২৭টি হিসাবে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা জমা আছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এই চারজন পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে জঙ্গিবাদের ভয় দেখিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামক দুটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি সামনে এসেছে। দুদকের আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, এসব হিসাবের অর্থ সরিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা চলছে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হিসাবগুলো অবরুদ্ধ রাখা জরুরি বলে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনুসন্ধানে সংগৃহীত নথিপত্রে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া যায়।

অবরুদ্ধ হওয়া ব্যাংক হিসাবগুলোতে বর্তমানে মোট ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে। মনিরুল ইসলাম ছাড়াও যাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে, তাদের তালিকায় রয়েছেন তার স্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মোজাম্মিল হোসেনের করা আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মনিরুল ইসলামের ১১টি ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা ও ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী সায়লা ফারজানার ৫টি হিসাবে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার ২৭টি হিসাবে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা জমা আছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এই চারজন পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে জঙ্গিবাদের ভয় দেখিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামক দুটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি সামনে এসেছে। দুদকের আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, এসব হিসাবের অর্থ সরিয়ে বিদেশে পাচারের চেষ্টা চলছে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হিসাবগুলো অবরুদ্ধ রাখা জরুরি বলে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।