প্রধানমন্ত্রী -: প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের ভাতা বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো, তারা যেন কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো সরকার ও সমাজের নাগরিক দায়িত্ব।
সরকারি সেবায় সাংকেতিক ভাষার ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা বা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বিস্তারে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সময় যোগাযোগজনিত জটিলতা নিরসনে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা কর্মী রাখার বিষয় নিয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয়েও সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে সঠিক পরিসংখ্যান সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার। এর মাধ্যমে তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতে অগ্রগতি হবে। এসব সমস্যা অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’। তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
চলাচল ও কর্মসংস্থান সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সের সীমা শিথিল করার বিষয়টি উঠে আসে। যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষায়িত বাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি জানান, নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী নকশা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, অন্যথায় ভবন নকশা অনুমোদন দেওয়া হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মসংস্থান ও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিগুলোর বিষয়ে তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ, আইন ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা তাদের অধিকার সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর সংবেদনশীলতা
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলাল। সভায় প্রায় ৩০ জন প্রতিনিধি তাদের জীবনসংগ্রাম ও বিভিন্ন দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও সংবেদনশীল আচরণের একটি বিশেষ দৃশ্য ছিল ক্রীড়াবিদ মো. মহসিনের উপহার গ্রহণ। মহসিন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ক্যাপ নিয়ে এলে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে এসে ব্যক্তিগতভাবে তা গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে বিদেশে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মহসিনের দলকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সব ধরনের সীমাবদ্ধতা দূর করে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে সভায় বারবার উচ্চারিত হয়েছে। এই মতবিনিময় সভা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে প্রতিনিধিরা মনে করছেন। প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যাতে রাষ্ট্রের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা পেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অতীতে যেসব ঘাটতি ছিল, তা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।





















