কলকাতায় পূজামণ্ডপ ধসে ১৭ জনের প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে মহাসপ্তমীর রাতে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপের একাংশ ভেঙে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার রাতে প্রবল বৃষ্টির সময়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভেতরে আশ্রয় নিলে সেখানে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়ি শুরু হলে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং অনেকেই কাঠামোর নিচে চাপা পড়েন। পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যেই পদদলনের মতো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ার পর শুরুতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই এগিয়ে এসে ভাঙা কাঠামো সরিয়ে আহতদের উদ্ধারে সহায়তা করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী ভেঙে পড়া কাঠামোর নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক থাকলেও শুরুতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
উদ্ধার হওয়াদের দ্রুত স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অনেককে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে যুক্ত চিকিৎসক ডা. তমাল ভট্টাচার্য জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চারজনকে তিনি প্রাথমিক সেবা দিয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের জন্য রাজ্য সরকার একটি হেল্পলাইন চালু করেছে। পরে মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্য দুজনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আরও বেশি মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এবং তদন্তের স্বার্থে পূজামণ্ডপটি আপাতত জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

























