১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশের পর, এখন থেকে দেশের সব খাদ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ ও নতুন এই প্রবিধানমালার আলোকে খাদ্য ব্যবসাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এর আওতায় ছোট ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান, পেস্ট্রি শপ, মিষ্টির দোকান, রেস্তোরাঁ ও বেকারি থেকে শুরু করে বড় আকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করতে হবে।
বিশেষ করে ১৬ ধরনের সাধারণ খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য যেমন শিশুদের ফর্মুলা দুধ, প্রোবায়োটিক, প্রি-বায়োটিক, বিশেষ পথ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন, বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (Fortified) খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদন বা আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধন গ্রহণ করা আবশ্যিক। আবেদন প্রক্রিয়া সহজতর করতে বর্তমানে জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে, তবে পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা চালু করা হবে। নির্ধারিত ফি পরিশোধের পাশাপাশি ফরম ৫.১ (নিবন্ধনের জন্য) এবং ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ (লাইসেন্সের জন্য) পূরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত ৪ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যসমূহের নিবন্ধন গ্রহণ। তবে কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে এখন থেকে বিএফএসএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তা সহজেই পণ্যের মান ও নিবন্ধন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাবে এবং কোনো অভিযোগ থাকলে সেই নম্বর উল্লেখ করে প্রতিকার চাইতে পারবে। এই উদ্যোগের ফলে খাদ্য উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমনকি রাস্তার পাশে যারা পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবারের ব্যবসা করেন, নতুন এই নিয়মের আওতায় তাদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।
নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে তিন বছর, যার পর এটি নবায়ন করতে হবে। বিধিমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ ক্যাটাগরির খাদ্য ব্যবসার জন্য প্রথমবার নিবন্ধন ফি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সুপারফুড বা বিশেষ ধরনের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ফ্লোরের আকারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার নিচের আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রচলিত ১৬ ধরনের খাদ্যব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট হবে। প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং আমদানিকারকদেরও (কাঁচা ও তাজা খাবার বাদে) নিবন্ধন করতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এ নিয়ম কার্যকরের ফলে দেশের খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

























