ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশই এখন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইসরাইলের সংসদ নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভূ-রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন কোনো হামলা চালানো হবে না। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। এই স্বল্পমেয়াদি কিন্তু কঠোর সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী মহড়া জোরদার করেছে। ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান হামলার কৌশলও অনুশীলন করা হয়েছে। এবারের প্রতিরোধ হবে আরও তীব্র, কৌশলগত ও ভিন্নধর্মী।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইল সফর করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য এই হামলা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার। কর্মকর্তাদের মতে, এই বড় ধরনের আক্রমণ ইরানের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে এবং আট মাসের সংঘাতের পর দেশটিকে কূটনৈতিক আপসের টেবিলে আসতে বাধ্য করতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা এই অভিযানের সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় ধরনের সংঘাতের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করার নজির রেখেছেন। তবে এই নতুন লড়াই আগের তুলনায় কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। চলতি বছরেই বড় ধরনের সংঘাতের বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা তিনি আটকে দেন।
তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে তাদের জবাব কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ বা জ্বালানি অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরান তাদের লক্ষ্য হিসেবে ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবলকে ব্যবহার করবে। ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি ওয়াশিংটনের অভিযানের পরিকল্পনাকে অবাস্তব দাবি করে বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। ইরানের বিশ্লেষকদের মতে, মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত এলে ইরান সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়িয়ে দেবে, যা সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলবে।
আগামী নভেম্বরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির পূর্ণ সমাবেশ ঘটবে, যেখানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকবে। তবে ২৭শে অক্টোবরের ইসরাইলি নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভোট পুরো পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি এবং নির্বাচন বিবেচনায় ট্রাম্প ভোটের আগে বড় কোনো পদক্ষেপে যেতে চাইছেন না। তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের বিকল্পই এখনো তাদের টেবিলে খোলা রয়েছে।























