ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাপোশ বানিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান

  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯ সালে পাপোশ তৈরির ক্ষুদ্র উদ্যোগ শুরু করেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের হুমায়ুন কবির। শুরুর দিকে নানা প্রতিকূলতা এবং করোনার ধাক্কায় ব্যবসা থমকে গেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ইএসডিওর রেইজ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ এবং তিন লাখ টাকা ঋণ সহায়তা নিয়ে তিনি নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ান। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরুনাগাঁও গ্রামে তার এই কারখানাটি অনেকের জন্য আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, চাকরির সন্ধানে না ছুটে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯ সালে ছোট্ট পরিসরে পাপোশ তৈরি করা শুরু করেন ঠাকুরগাঁওয়ের হুমায়ুন কবির। পাপোশ তৈরির কারখানা প্রথমদিকে অনেক ঝড় বইয়ে যায়। নিজ জেলার একটি বেসরকারি সংস্থা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে। আমাদের জন্য এই কাজটা অনেক উপকার হয়েছে।

কারখানার কাজের পরিবেশ নিয়ে কথা হয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। ইএসডিওর রেইজ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা তাবরেদী রায় জানান, ঋণ সহায়তার মাধ্যমে হুমায়ুন কবিরের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি অনুপ্রেরণাদায়ক। তাদের প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা। সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানায় কর্মরত নারীরা পাপোশ তৈরি, সেলাই ও ফিনিশিংয়ের কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এখানে কাজ করা শাম্মী আক্তার জানান, আগে তিনি বাড়িতে বেকার বসে থাকতেন, কিন্তু এখানে কাজ পেয়ে এখন সংসারে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারছেন। নুরবান নামের আরেক কর্মী পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করে নিজের খরচ চালাচ্ছেন। ফাতেমা বেগম নামে আরেক নারী জানান, পাপোশ তৈরির প্রতিটি ধাপে তারা কাজ করছেন এবং মাসে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বর্তমানে কারখানায় ৪৮ জন নারী নিয়মিত এবং প্রায় ১৫০ জন নারী খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাসে আমরা প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা উপার্জন করি। সকাল থেকেই শুরু সেলাই মেশিনের নানান খুটখাট শব্দ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

হুমায়ুন কবিরের এই সাফল্যে হস্তশিল্প ও কারুপণ্য সংস্থার পরিচালক চন্দনা ঘোষ বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে যেকোনো শিল্পকর্ম নিয়ে কাজ করলে ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। এছাড়া বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, সঠিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা এবং আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা থাকলে হুমায়ুন কবিরের মতোই যেকোনো উদ্যোক্তা নিজেকে সফল হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। নিজের অদম্য চেষ্টার মাধ্যমে হুমায়ুন কবির এখন স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন দুই শতাধিক নারীর।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাপোশ বানিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯ সালে পাপোশ তৈরির ক্ষুদ্র উদ্যোগ শুরু করেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের হুমায়ুন কবির। শুরুর দিকে নানা প্রতিকূলতা এবং করোনার ধাক্কায় ব্যবসা থমকে গেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ইএসডিওর রেইজ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ এবং তিন লাখ টাকা ঋণ সহায়তা নিয়ে তিনি নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ান। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরুনাগাঁও গ্রামে তার এই কারখানাটি অনেকের জন্য আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, চাকরির সন্ধানে না ছুটে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯ সালে ছোট্ট পরিসরে পাপোশ তৈরি করা শুরু করেন ঠাকুরগাঁওয়ের হুমায়ুন কবির। পাপোশ তৈরির কারখানা প্রথমদিকে অনেক ঝড় বইয়ে যায়। নিজ জেলার একটি বেসরকারি সংস্থা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে। আমাদের জন্য এই কাজটা অনেক উপকার হয়েছে।

কারখানার কাজের পরিবেশ নিয়ে কথা হয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। ইএসডিওর রেইজ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা তাবরেদী রায় জানান, ঋণ সহায়তার মাধ্যমে হুমায়ুন কবিরের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি অনুপ্রেরণাদায়ক। তাদের প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা। সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানায় কর্মরত নারীরা পাপোশ তৈরি, সেলাই ও ফিনিশিংয়ের কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এখানে কাজ করা শাম্মী আক্তার জানান, আগে তিনি বাড়িতে বেকার বসে থাকতেন, কিন্তু এখানে কাজ পেয়ে এখন সংসারে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারছেন। নুরবান নামের আরেক কর্মী পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করে নিজের খরচ চালাচ্ছেন। ফাতেমা বেগম নামে আরেক নারী জানান, পাপোশ তৈরির প্রতিটি ধাপে তারা কাজ করছেন এবং মাসে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বর্তমানে কারখানায় ৪৮ জন নারী নিয়মিত এবং প্রায় ১৫০ জন নারী খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাসে আমরা প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা উপার্জন করি। সকাল থেকেই শুরু সেলাই মেশিনের নানান খুটখাট শব্দ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

হুমায়ুন কবিরের এই সাফল্যে হস্তশিল্প ও কারুপণ্য সংস্থার পরিচালক চন্দনা ঘোষ বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে যেকোনো শিল্পকর্ম নিয়ে কাজ করলে ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। এছাড়া বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, সঠিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা এবং আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা থাকলে হুমায়ুন কবিরের মতোই যেকোনো উদ্যোক্তা নিজেকে সফল হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। নিজের অদম্য চেষ্টার মাধ্যমে হুমায়ুন কবির এখন স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন দুই শতাধিক নারীর।