ের মুখে নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়মের ছড়াছড়ি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে তল্লাশি ছাড়াই সাধারণ মানুষ ও যানবাহন অবাধে যাতায়াত করছে। এছাড়া এলাকায় অবৈধ পার্কিং, ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অনুমোদনহীন স্থাপনার আধিক্য নিরাপত্তার বিষয়টি সংকটে ফেলেছে। গত তিন বছরে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই অনিয়মগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগমনী টার্মিনাল-২ এলাকায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার সাইনবোর্ড থাকলেও অনেকে তা উপেক্ষা করে ভেতরে ঢুকছেন। দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান অব্যবহৃত পড়ে আছে, অথচ বহির্গমন সড়ক দখল করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাত্রী তুলছে। চালকদের একাংশের দাবি, পার্কিংয়ে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তবে অন্য চালকরা জানিয়েছেন, মাত্র ৫০ টাকায় তিন ঘণ্টার জন্য পার্কিং সুবিধা পাওয়া যায় এবং কিছু চালক ইচ্ছাকৃতভাবে সড়কে যানজট তৈরি করছেন। দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতেও এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। কয়েকজন চালকের দাবি, নির্ধারিত পার্কিংয়ে সিএনজি রাখার সুযোগ না থাকায় তাঁরা সড়কে গাড়ি দাঁড় করান। তবে অন্য এক চালক জানান, ৫০ টাকা দিয়ে তিন ঘণ্টা পার্কিংয়ে গাড়ি রাখা সম্ভব।
নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হওয়া আরও কিছু বিষয়ের মধ্যে রয়েছে পার্কিং এলাকায় ফুলের দোকান ও ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানের উপস্থিতি। ভিক্ষুকদের অবাধ চলাচলের পাশাপাশি कুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের বস্তাভর্তি পণ্য ও খাবারের বক্স কোনো তল্লাশি ছাড়াই বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরে টিনশেড হোটেল ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের বিষয়টিও বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজির মতো যানবাহন কেন কোনো নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঢুকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তৌহিদুল হক সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের অবাধ প্রবেশ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে। বড় দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষকে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, পণ্য প্রবেশের বিষয়টি তাঁর জানা নেই এবং এর দায়িত্ব এপিবিএনের। অপরদিকে, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল দাবি করেছেন, ল্যান্ডসাইড বা বাইরের এলাকার নিরাপত্তা এপিবিএনের অধীনে এবং নিয়ন্ত্রিত এলাকা বা এয়ারসাইডে কোনো ঝুঁকি নেই। এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি নুরুল ইসলাম জানান, বাহিনীটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে এবং অবৈধ দোকান উচ্ছেদে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
























