জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিতব্য এই সফরটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।
ঢাকা ও টোকিও উভয়ই এই সফর থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রত্যাশা করছে। জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের মতে, নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতি বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। এই সফর বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বাধা দূর করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর জন্য একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে দেবে। দেশটির মতে, আলোচনায় অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এছাড়া তিনি জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাইকা, জেট্রো এবং জেবিআইসি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তার আলোচনা বিনিয়োগের সুযোগ ও শিল্পখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি টোকিওতে ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জাপানি বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়াতে সফরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ঢাকার মেট্রোরেল, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীর মতো বড় প্রকল্পগুলো এই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের উদাহরণ। বর্তমান সফরের মাধ্যমে দুই দেশ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনার সুযোগ পাবে।
জাপান মনে করে, এই সফর কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারগুলোর মধ্যে গৃহীত অঙ্গীকার ও সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে টোকিও, যা ব্যবসায়িক আস্থা বাড়াতে ও নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে। চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে জাপান বলেছে, বিদ্যমান উদ্যোগগুলোতে বাস্তব উন্নতি ব্যবসায়িক আস্থা বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

























