ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ছক, নিরাপত্তা জোরদার করল ওয়াশিংটন ফ্রান্সের বিক্ষোভে স্পাইডারম্যানসহ নামলেন সুপারহিরোর সাজে প্রতিবাদকারীরা নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা তদন্তের দাবিতে উত্তাল তেল আবিব, পথে লাখো মানুষ দুই মাসের সর্বোচ্চ দরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চুক্তি না হলে রোববারই ইরানে হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প চার দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিনির্বাপণে গিয়ে কর্মীর মৃত্যু সৌদিতে দুই বাংলাদেশির দণ্ড কার্যকর নিয়ে স্পষ্টীকরণ চাইল ঢাকা অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরে জয়ের রথ থামল ম্যানচেস্টার সিটির ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা

মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ছক, নিরাপত্তা জোরদার করল ওয়াশিংটন

  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার গোপন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। এ ধরনের সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে নিজেদের কূটনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়মিতভাবে এই ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হচ্ছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। কিছু গোয়েন্দা তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইরানি এজেন্টদের উপস্থিতির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস, জে ক্লেটনের দপ্তর ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানও ইরানের হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন ও সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর প্রতিটি দেশে নিয়োজিত কূটনৈতিক মিশনে কর্মী মোতায়েনের বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত। হামলার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের সামর্থ্য তুলনামূলকভাবে কম বলে তার মূল্যায়ন।

ওয়াশিংটনের দাবি, সরাসরি লড়াইয়ের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর বিভিন্ন কৌশলে পাল্টা হামলার পথ খুঁজছে তেহরান। এ ধরনের ঝুঁকির মুখে গত অক্টোবরে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ১২টি বি-১ বোমারু বিমান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। সামরিক কমান্ডাররা আশঙ্কা করেছিলেন যে, ওই ঘাঁটিকে কেন্দ্র করেই ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা ও এর প্রচারের পরিধি নিয়ে নতুন করে কাজ করছে মার্কিন প্রশাসন। জে ক্লেটন মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি স্মারকলিপিতে জানিয়েছেন, যাতে সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে আরও আগে থেকে সতর্ক হতে পারেন, সেজন্য গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তার স্তর কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ঝুঁকির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনাপ্রবাহে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এই উত্তেজনার পর ২ মার্চ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরাক, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন মিশনের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। মূলত রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও এর আশপাশের এলাকায় ইরানের হামলার ঘটনার পরপরই এই কড়া নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ওয়াশিংটন আপাতত সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ছক, নিরাপত্তা জোরদার করল ওয়াশিংটন

আপডেট সময় : ১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার গোপন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। এ ধরনের সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে নিজেদের কূটনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়মিতভাবে এই ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হচ্ছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। কিছু গোয়েন্দা তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইরানি এজেন্টদের উপস্থিতির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস, জে ক্লেটনের দপ্তর ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানও ইরানের হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন ও সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর প্রতিটি দেশে নিয়োজিত কূটনৈতিক মিশনে কর্মী মোতায়েনের বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত। হামলার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের সামর্থ্য তুলনামূলকভাবে কম বলে তার মূল্যায়ন।

ওয়াশিংটনের দাবি, সরাসরি লড়াইয়ের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর বিভিন্ন কৌশলে পাল্টা হামলার পথ খুঁজছে তেহরান। এ ধরনের ঝুঁকির মুখে গত অক্টোবরে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ১২টি বি-১ বোমারু বিমান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। সামরিক কমান্ডাররা আশঙ্কা করেছিলেন যে, ওই ঘাঁটিকে কেন্দ্র করেই ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা ও এর প্রচারের পরিধি নিয়ে নতুন করে কাজ করছে মার্কিন প্রশাসন। জে ক্লেটন মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি স্মারকলিপিতে জানিয়েছেন, যাতে সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে আরও আগে থেকে সতর্ক হতে পারেন, সেজন্য গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তার স্তর কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ঝুঁকির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনাপ্রবাহে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এই উত্তেজনার পর ২ মার্চ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরাক, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন মিশনের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। মূলত রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও এর আশপাশের এলাকায় ইরানের হামলার ঘটনার পরপরই এই কড়া নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ওয়াশিংটন আপাতত সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।