ট্রাম্পের ইরান নীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ওবামার তীব্র সমালোচনা
- আপডেট সময় : ১১:২৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ইরান নীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তীব্র তোপ দেগেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত শনিবার ওহাইও ও মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে রাশ টানা ও সরকারি জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারের শেষ পর্যায়ে ওবামার এই সক্রিয়তা ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওবামার মতে, ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে ওবামার এমন সরব উপস্থিতি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে লড়াই হতে যাচ্ছে। ক্লিভল্যান্ডে সমর্থকদের উদ্দেশে ওবামা বলেন, বিগত দুই বছর ধরে অযোগ্যতা, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির যে চিত্র দেশবাসী দেখেছে, তা আধুনিক সময়ের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তার অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় সামরিক সংঘাত ও ইরান নীতি অনুসরণ করতে গিয়েই প্রশাসন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। তিনি বলেন, আধুনিক সময়ে দেখা যায়নি—এমন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার অভিযোগে গত দুই বছর কেটেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে পণ্যের দাম বেশি ছিল—এমন যুক্তি দেওয়া হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।
মিশিগানের ডেট্রয়েটে সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ওবামা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসেন। জনগণের করের অর্থের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং হোয়াইট হাউসের সংস্কার কার্যে ব্যয়বহুল আয়োজনের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। এ সময় তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সামরিক সদস্যদের বাহ্যিক উপস্থিতির বিষয় নিয়েও তীর্যক মন্তব্য করেন।
ওবামার এসব মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জর্জিয়ার এক সমাবেশে অভিবাসন ও শুল্কনীতির প্রসারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে এক ‘সুবর্ণ যুগে’ প্রবেশ করানোর দাবি করেন। ট্রুথ সোশ্যালে ওবামাকে চরম অযোগ্য আখ্যা দিয়ে তার ইরান নীতি ও অতীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারণার বিষয়টি নিয়ে বিদ্রূপ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত ‘জিহাদি’ বলে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এল-সায়েদ মূলত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিপরীতে নির্বাচনে লড়ছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাদের এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক অবস্থান এখন ইরান যুদ্ধ, অর্থনীতি, অভিবাসন এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিকে প্রধান ইস্যু করে তুলেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দল পাবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ট্রাম্পের প্রশাসনের অবশিষ্ট মেয়াদে নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের ভবিষ্যৎ পথচলা।
























