‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর
- আপডেট সময় : ১০:০০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদরদফতর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক স্পষ্টীকরণে জানানো হয়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোরতা বোঝাতে আইজিপি শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা আইনের আওতা বহির্ভূত কোনো শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে এই শব্দটি উল্লেখ করেননি বলে পুলিশ সদরদফতর দাবি করেছে।
সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মন্তব্যটি করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশকে লাঠি পেটা করি বলবেন আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ। আর আমরা যদি নীরবে থাকি তাহলে বলবে দুর্বল পুলিশ। তাহলে আমাকে তো কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। এমপাওয়ার করতে হবে।’ একই বক্তৃতায় সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত শিরোনাম ও আলোচনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সদরদফতর এই ব্যাখ্যার উদ্যোগ নেয়।
পুলিশ সদরদফতর জানিয়েছে, আইজিপি মূলত মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনে এই স্পষ্টীকরণ জরুরি ছিল বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে। স্পষ্টীকরণে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব।
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও সদরদফতরের ভাষ্যে উঠে আসে। এসব দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের কখনও অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী কিংবা আইন অমান্যকারী ব্যক্তিদের সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়।
এদিকে, ওই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিষয়ে সদরদফতর স্পষ্ট করে বলেছে, আইজিপি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করার উদ্দেশ্য রাখেননি; বরং ওই বিষয়টি অসাবধানতাবশত ঘটে গেছে।
আইজিপির এই বক্তব্যের পর হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিল। এইচআরএসএস বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে, টিআইবি বক্তব্যটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি আইজিপির জবাবদিহি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত অবস্থানের পরিপন্থি এই মন্তব্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। পুলিশ সদরদফতর পরিশেষে জানিয়েছে, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

























