ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাঁথিয়ায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ফ্রান্সে কারফিউয়ে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, নতুন বিক্ষোভের শঙ্কা শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্টোরে ধোঁয়া তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত সামুদ্রিক চুক্তিতে অনুমোদন লিবিয়ার পার্লামেন্টের মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পরিত্যক্ত শুটারগান ও কার্তুজ উদ্ধার কলকারখানায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের ভাড়া বাসায় ডিজে পার্টি ও অসামাজিক রাজাপুরে ইজিবাইক উল্টে ১০ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ১২ উড়োজাহাজ নিয়ে উভয় সংকট

খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে খাওয়ানো শিশুর দায়িত্ব নিল উপজেলা প্রশাসন

  • আপডেট সময় : ০৬:২০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 19
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে খুঁটিতে বাঁধা বাবার মুখে চা-রুটি তুলে দেওয়ার হৃদয়স্পর্শী ঘটনার পর মানবিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকন্যার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির বাবা অনিক, যিনি মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে, তাকে চিকিৎসার জন্য নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাবার প্রতি ৯ বছরের শিশুটির নিঃশর্ত ভালোবাসার দৃশ্যটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর আগে শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলী সুজা অনিকের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান করেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে বামরাইল বাজারে অনিককে চুরির অভিযোগে আটক করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। সেই কঠিন মুহূর্তে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় তার ৯ বছর বয়সী শিশুসন্তান। বাবাকে মারধর না করার জন্য শিশুটি কান্নাকাটি করে আকুতি জানায় এবং চা ও রুটি নিয়ে বাবার মুখে তুলে দেয়। বাবার ব্যথার স্থানে হাত বুলিয়ে তার শারীরিক অবস্থা জানতে চাওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ সময় বামরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে। এ সময় খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসে তার ৯ বছরের শিশুকন্যা।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অনিকের বিরুদ্ধে অতীতেও চুরির অভিযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে তা মীমাংসার কথা শোনা গেলেও, এসবের কোনো আইনি প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। শিশুটির নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বাবার প্রতি তার টান স্থানীয় জনমনে গভীর রেখাপাত করেছে। অভিযোগের সত্যতা আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয় হলেও, জনসম্মুখে মারধর এবং শিশুর সামনে এমন ঘটনার প্রভাব নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, যেকোনো পরিস্থিতির আড়ালেই একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ও শিশুর স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে, যা সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এছাড়া বাবাকে রুটি খাওয়ানোর দৃশ্য দেখে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শিশুটিকে শিক্ষাসহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিচার নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে প্রকাশ্যে মারধর করা এবং শিশুর সামনে এমন ঘটনা ঘটানো যে কতটা নির্মম প্রভাব ফেলতে পারে, বামরাইলের এই ঘটনা সেই প্রশ্নটিই সামনে এনেছে। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও ছোট্ট মেয়েটির ‘বাবা’ ডাক যেন মনে করিয়ে দিয়েছে—অভিযোগের আড়ালেও একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে খাওয়ানো শিশুর দায়িত্ব নিল উপজেলা প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৬:২০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে খুঁটিতে বাঁধা বাবার মুখে চা-রুটি তুলে দেওয়ার হৃদয়স্পর্শী ঘটনার পর মানবিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকন্যার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির বাবা অনিক, যিনি মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে, তাকে চিকিৎসার জন্য নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাবার প্রতি ৯ বছরের শিশুটির নিঃশর্ত ভালোবাসার দৃশ্যটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর আগে শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলী সুজা অনিকের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান করেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে বামরাইল বাজারে অনিককে চুরির অভিযোগে আটক করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। সেই কঠিন মুহূর্তে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় তার ৯ বছর বয়সী শিশুসন্তান। বাবাকে মারধর না করার জন্য শিশুটি কান্নাকাটি করে আকুতি জানায় এবং চা ও রুটি নিয়ে বাবার মুখে তুলে দেয়। বাবার ব্যথার স্থানে হাত বুলিয়ে তার শারীরিক অবস্থা জানতে চাওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ সময় বামরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে। এ সময় খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসে তার ৯ বছরের শিশুকন্যা।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অনিকের বিরুদ্ধে অতীতেও চুরির অভিযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে তা মীমাংসার কথা শোনা গেলেও, এসবের কোনো আইনি প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। শিশুটির নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বাবার প্রতি তার টান স্থানীয় জনমনে গভীর রেখাপাত করেছে। অভিযোগের সত্যতা আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয় হলেও, জনসম্মুখে মারধর এবং শিশুর সামনে এমন ঘটনার প্রভাব নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, যেকোনো পরিস্থিতির আড়ালেই একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ও শিশুর স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে, যা সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এছাড়া বাবাকে রুটি খাওয়ানোর দৃশ্য দেখে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শিশুটিকে শিক্ষাসহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিচার নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে প্রকাশ্যে মারধর করা এবং শিশুর সামনে এমন ঘটনা ঘটানো যে কতটা নির্মম প্রভাব ফেলতে পারে, বামরাইলের এই ঘটনা সেই প্রশ্নটিই সামনে এনেছে। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও ছোট্ট মেয়েটির ‘বাবা’ ডাক যেন মনে করিয়ে দিয়েছে—অভিযোগের আড়ালেও একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ থাকে।