৩০০ কোটির বিনিয়োগ, তবুও বেতন বকেয়া চালডাল কর্মীদের
- আপডেট সময় : ০৪:২২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
দেশের অনলাইন মুদি পণ্য বিক্রির পরিচিত প্রতিষ্ঠান চালডাল ডটকম বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিষ্ঠানটি অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ পেলেও যশোরের কল সেন্টারের ছয় শতাধিক কর্মীর তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়ে আছে। বকেয়া পাওনার দাবিতে কর্মীরা কয়েক দিন ধরে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত সোমবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পার্কের প্রধান ফটক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কর্মীদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংসার চালানো, বাসাভাড়া পরিশোধ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তাঁরা চরম সংকটে পড়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে রাস্তায় নামেননি; শুধুমাত্র নিজেদের শ্রমের পাওনা বেতনের দাবিতেই আন্দোলন করছেন।
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা চালডাল ডটকম সময়ের ব্যবধানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর ও সিলেটসহ বিভিন্ন বড় শহরে নিজেদের কার্যক্রম ছড়িয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছিল।
ওয়াই কম্বিনেটর, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), এল ক্যাটারটন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড, আইডিএলসি এবং বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বর্তমানে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, অতিরিক্ত আগ্রাসী সম্প্রসারণ, অস্বাভাবিক পরিচালন ব্যয় এবং নতুন বিনিয়োগের স্থবিরতা এই সংকটের মূল কারণ হতে পারে। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে আগ্রাসী সম্প্রসারণ, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব কারণ চালডালের বর্তমান সংকটের নিশ্চিত ব্যাখ্যা কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, কর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। এই বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন অধিশাখা) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর তিনি যশোরের বিনিয়োগকারীদের সংগঠনের সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠক করেছেন। সরাসরি তাঁদের এখতিয়ারভুক্ত না হলেও সরকারি প্রযুক্তি পার্কের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটায় দ্রুত সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সমাধানে আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।
পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চালডাল ডটকমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। ফলে বেতন বকেয়া থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং তা পরিশোধের কোনো সময়সীমা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা দেশের ই-কমার্স খাতে আর্থিক স্বচ্ছতা ও কর্মীর অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

























