এলপিজির দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের, বৃহস্পতিবার শুনানি
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট চার্জ নতুন করে বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিইআরসি আয়োজিত গণশুনানির আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) লিখিত মতামতে সংগঠনটি তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে জমা দেওয়া এই সুপারিশে ক্যাব এলপিজি ভোক্তাদের বর্তমান সংকট ও আর্থিক চাপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। চূড়ান্ত মূল্যহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন ব্যয় গ্রহণ বা বর্জন করা হয়েছে এবং উত্থাপিত আপত্তিগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও চেয়েছে ক্যাব।
ক্যাবের ভাষ্যমতে, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই ভোক্তারা নির্ধারিত ওই দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি ব্যয় করে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি বাসায় পৌঁছে দেওয়ার খরচের ক্ষেত্রেও কোনো স্বচ্ছ হিসাব থাকছে না, যা নির্দেশ করে যে বর্তমানে নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে বড় ধরনের দুর্বলতা এবং সরবরাহব্যবস্থায় জবাবদিহির অভাব রয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, পাইপলাইনের গ্যাসসুবিধাবঞ্চিত অসংখ্য পরিবার রান্নার কাজে পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য জ্বালানির এই বাড়তি ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন। এমতাবস্থায় নতুন করে দাম বাড়ালে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় হয়ে পড়বে।
বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফা রোধে কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়ে ক্যাব বলেছে, সরবরাহের ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে বা মজুত থাকার পরও সরবরাহ করা হচ্ছে না। এই অনিয়মের তদন্তে শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং এলপিজি অপারেটর ও পরিবেশকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে ডলারের বিনিময় হার বা জাহাজভাড়ার মতো ব্যয় বৃদ্ধির যে যুক্তি দেওয়া হয়, তা প্রকৃত দলিল ও নিরপেক্ষ কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছে ক্যাব। তাদের মতে, একই ব্যয় বারবার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা বা অযৌক্তিক ব্যয় গ্রাহকের ঘাড়ে চাপানো বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি ব্যয় কমলে তার সুফলও অবিলম্বে ভোক্তাদের দিতে হবে।
মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিচালন ব্যয় এবং সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির উৎপাদন বা ক্রয়ব্যয় আলাদাভাবে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতিটি বিক্রির রসিদ প্রদান নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্ব দিয়েছে।
অতিরিক্ত মূল্য আদায়, কম ওজন বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলে তা সহজে জানানোর এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ক্যাবের মতে, গণশুনানিতে আবেদনকারীদের প্রস্তাবের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে বিইআরসির উচিত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
সর্বোপরি, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এলপিজির বর্তমান মূল্য ও চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন না করার অনুরোধ জানিয়েছে ক্যাব। এছাড়া, নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কমিশনকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

























