আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাব কর্মীদের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৩:১০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কার্যালয়ে ঢুকে সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজের দপ্তরেই এই হামলার শিকার হন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরিচালক কাজী আহমেদ যখন নিজের কক্ষে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই ৮-৯ জনের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে। এরপর তারা তাকে চেয়ার থেকে টেনে হিঁচড়ে উঠিয়ে মারধর শুরু করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আক্রমণকারীদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআর চত্বরে দেখেননি।
ঘটনার বিষয়ে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে এক অদ্ভুত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, পরিচালকের ব্যক্তিগত কিছু দোষ রয়েছে। এ সময় তিনি মুঠোফোনে একটি ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়েও কাজী আহমেদ কেন মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার অফিসে বৈঠক করেছিলেন। উল্লেখ্য, মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং করোনা মহামারিতে পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।
আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে হামলার শিকার কাজী আহমেদ জাকি জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, দেশের রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় নিয়োজিত আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সিডিসির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। গত জুলাই মাসে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর অধ্যাপক কাজী আহমেদকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি বর্তমানে হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

























