ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তেহরানে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ব্যানার পুড়িয়ে বিক্ষোভ ইরানিদের মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো হবে: প্রধানমন্ত্রী সাইফের সঙ্গেও কথা বলেন না কারিনা, রাত ১০টার পর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চল সাতক্ষীরায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক নারী ইউটিউব দেখে জাল নোটের কারখানা গড়ে আটক চার সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে শেখ সাদীর জীবনদর্শন খুলনা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী: থাকছে বিশেষ কর্মসূচি নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে কর্মকৌশল পরিবর্তনের আহ্বান রিপাবলিকানদের মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

তেহরানে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ব্যানার পুড়িয়ে বিক্ষোভ ইরানিদের

  • আপডেট সময় : ০২:১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের রাজধানী তেহরানে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দেন। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যানারটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছবিও ছিল। এ সময় উত্তেজিত জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দুই দেশের পতাকা পোড়ান। পাশাপাশি ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন তারা।

১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে ইরান সরকার সমর্থকদের নিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈরী সম্পর্কের সূচনা হয়, যেখানে ৪৪৪ দিন জিম্মি ছিলেন ৫২ জন মার্কিন নাগরিক ও কূটনীতিক। দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনো অব্যাহত রয়েছে। টানা ৪৪৪ দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, সমাবেশের আগের দিন ৩ নভেম্বর ইনকিলাব স্কয়ারে ওই চার নেতার ছবিসহ বিশাল পোস্টারটি টাঙানো হয়েছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরানের নেতারা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল মার্কিন ভোটারদের যুদ্ধবিরোধী অবস্থানেরই প্রতিফলন। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আনাদোলু এজেন্সি ও ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির আলোকচিত্রী ফাতেমেহ বাহরামির তোলা ছবিতে পোস্টারটির উপস্থিতি দেখা যায়। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতারা মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন তারা।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, আমেরিকানরা যুদ্ধের বিপক্ষে রায় দিয়েছে এবং ইরান এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি জনগণের এই যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে উপেক্ষা করে, তবে তাদের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কণ্ঠে। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রদবদল হলেও তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বৈরী নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের মাধ্যমে ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব বদলে যাবে—এমন প্রত্যাশা করাকে ভুল বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো চালু থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখনো উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

তেহরানে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ব্যানার পুড়িয়ে বিক্ষোভ ইরানিদের

আপডেট সময় : ০২:১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের রাজধানী তেহরানে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দেন। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যানারটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছবিও ছিল। এ সময় উত্তেজিত জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দুই দেশের পতাকা পোড়ান। পাশাপাশি ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন তারা।

১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে ইরান সরকার সমর্থকদের নিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈরী সম্পর্কের সূচনা হয়, যেখানে ৪৪৪ দিন জিম্মি ছিলেন ৫২ জন মার্কিন নাগরিক ও কূটনীতিক। দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনো অব্যাহত রয়েছে। টানা ৪৪৪ দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, সমাবেশের আগের দিন ৩ নভেম্বর ইনকিলাব স্কয়ারে ওই চার নেতার ছবিসহ বিশাল পোস্টারটি টাঙানো হয়েছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরানের নেতারা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল মার্কিন ভোটারদের যুদ্ধবিরোধী অবস্থানেরই প্রতিফলন। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আনাদোলু এজেন্সি ও ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির আলোকচিত্রী ফাতেমেহ বাহরামির তোলা ছবিতে পোস্টারটির উপস্থিতি দেখা যায়। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতারা মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন তারা।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, আমেরিকানরা যুদ্ধের বিপক্ষে রায় দিয়েছে এবং ইরান এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি জনগণের এই যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে উপেক্ষা করে, তবে তাদের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কণ্ঠে। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রদবদল হলেও তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বৈরী নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের মাধ্যমে ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব বদলে যাবে—এমন প্রত্যাশা করাকে ভুল বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো চালু থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখনো উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।