সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে শেখ সাদীর জীবনদর্শন
- আপডেট সময় : ১১:১৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
একবার হযরত মুসা (আঃ) পথ চলার সময় মরুভূমিতে অত্যন্ত দরিদ্র এক ব্যক্তিকে দেখলেন। লোকটির গায়ে পরার মতো কাপড় ছিল না এবং লজ্জায় সে বালুর নিচে নিজের শরীর ঢেকে রেখেছিল। মুসা (আঃ) সেই ব্যক্তির করুণ দশা দেখে ব্যথিত হলেন এবং তার অভাব দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। পরবর্তীতে সেই দোয়া কবুল হলো।
কিছুদিন পর মুসা (আঃ) একই পথ দিয়ে ফেরার সময় সেখানে বিশাল জনসমাগম দেখতে পেলেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, সেই ভিক্ষুক এখন বেশ সম্পদশালী। কিন্তু হঠাৎ বিত্তশালী হয়ে সে মদ্যপান ও উচ্ছৃঙ্খলতায় জড়িয়ে পড়ে। মাতাল অবস্থায় ঝগড়া করতে গিয়ে সে এক ব্যক্তিকে আঘাত করে হত্যা করে ফেলে। যার ফলে এখন তার মৃত্যুদণ্ড বা ‘কিসাস’ কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। এই দৃশ্য দেখে মুসা (আঃ) আল্লাহর প্রজ্ঞার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের আবদারের জন্য ইস্তেগফার পাঠ করেন।
আল্লামা শেখ সাদী (রহ.) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মানুষের স্বভাব ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে কয়েকটি শিক্ষণীয় উদাহরণ দিয়েছেন
- বেচারা বিড়ালের যদি ডানা থাকত, তবে সে দুনিয়া থেকে সব চড়ুই পাখির বংশ শেষ করে দিত। অর্থাৎ, দুর্বলরা শক্তি পেলে অত্যাচারী হয়ে ওঠে।
- প্লাটো (আফলাতুন) বলেছেন, পিঁপড়ার পাখা না থাকাই ভালো। কারণ পাখা গজালে সে উড়ে বেড়াবে এবং নিজের ধ্বংস ডেকে আনবে।
- পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, যদি আল্লাহ তার সব বান্দাকে অঢেল রিজিক দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। (সূরা-শুরা:২৭)
- বাবার কাছে অনেক মধু আছে, কিন্তু তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছেলেকে তা খেতে দেন না। কারণ তিনি জানেন, মধু মিষ্টি হলেও জ্বরের রোগীর জন্য তা ক্ষতিকর।
সারকথা হলো, যিনি কাউকে ধনী করেননি, তিনি সেই ব্যক্তির ভালো-মন্দ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি জানেন। আল্লামা শেখ সাদীর মতে, জাগতিক প্রাপ্তি সবসময় মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।

























