ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ৪ জেলে কারাগারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর মোজাম্বিক থেকে দেশে ফিরল প্রবাসী জসিমের মৃত অবস্থায় পাওয়া পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৯ জনের প্রাণহানি আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী ফেনীর ফাজিলপুরে ১৯ নভেম্বর বিনামূল্যে রোগী দেখবেন অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মুম্বাই পুলিশের নোটিশে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পেলেন অভিনেতা ইমরান

নরসিংদীতে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ব্যক্তি মালিকাধীন স্থাপনা ও বাড়ীঘর উচ্ছেদ

  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুন ২০১৭
  • / 290

Exif_JPEG_420

বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ  নরসিংদী শহর রক্ষা বাঁধের পাশে রাস্তা নির্মাণের জন্য বেআইনীভাবে বিভিন্ন পাকা স্থাপনাসহ বাড়ীঘর উচ্ছেদের উপর ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞাসহ রুলনিশি জারি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মেঘনা তীরবর্তী দত্তপাড়া এলাকার মোস্তাক আহমেদ ভূইয়া ও বৌয়াকুড় এলাকার জহিরুল ইসলাম গং দাখিলকৃত রীট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ নরসিংদী পৌর মেয়রসহ ৭ জনের উপর এই নিষেধাজ্ঞা ও রুলনিশি জারী করেছেন।অন্যান্য বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব, নরসিংদী জেলা প্রশাসক, নরসিংদী পুলিশ সুপার, পৌর মেয়রের প্রতিনিধি, নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড, নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী।

হাইকোর্ট বেঞ্চ বিবাদীদেরকে কারণ দর্শানোর জন্য ৪ সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে নরসিংদী শহরের পাশে হাড়িধোয়া নদী ও মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত হয় নরসিংদী শহর রক্ষা বাধ। এই শহর রক্ষা বাধের মূল পরিকল্পনায় কোন রাস্তা নির্মাণের স্থান রাখা হয়নি। সম্প্রতি নরসিংদীর পানি উন্নয়ন বোর্ড শহর রক্ষা বাধের পাশে ৬ কোটিরও বেশী টাকা ব্যায়ে একটি রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে ‘শামীম কনস্ট্রাকশন’কে ঠিকাদার নিয়োগ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসেন জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তা নির্মাণের উপযোগী করার জন্য বাধের পাশে বিভিন্ন স্থাপনা ও বাড়ীঘর উচ্ছেদ অভিযান চালাতে থাকে। এই  অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ বৌয়াকুড় ও দত্তপাড়া এলাকাবাসী নরসিংদী পৌর কর্তৃপক্ষকে জানায় যে, এই স্থাপনা ও বাড়ীঘরগুলো তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন এবং নিজস্ব ভূ-সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এরপরও পৌর কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বিনা নোটিশে অধিগ্রহণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূ-সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে থাকে।

এই অবস্থায় তারা নরসিংদী জেলা প্রশাসকের নিকট এক অভিযোগপত্রেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা থেকে বিনা অধিগ্রহণ ও বিনা নোটিশে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে কোন প্রকার সাড়া না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাদী মোস্তাক আহমেদ ও জহিরুল হক গং পৃথক পৃথকভাবে হাইকোর্টে দুটি রীট পিটিশন দাখিল করে। এই রীট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী পক্ষের শুনানী শেষে গত ৭ মে হাইকোর্ট বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা ও রুলনিশি জারী করেন।

এব্যাপারে নরসিংদী পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে, তারা কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় উচ্ছেদ  অভিযান চালায় নি। জনস্বার্থে রাস্তা নির্মাণের জন্য অবৈধ দখলদারীদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাছাড়া ব্যক্তিমালিকানা দাবীকারীরা তাদের নকশা, পর্চা অনুযায়ী নির্ধারিত অবস্থানে না থেকে নদীপাড়ের জায়গা দখল করে রেখেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নরসিংদীতে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ব্যক্তি মালিকাধীন স্থাপনা ও বাড়ীঘর উচ্ছেদ

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুন ২০১৭

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ  নরসিংদী শহর রক্ষা বাঁধের পাশে রাস্তা নির্মাণের জন্য বেআইনীভাবে বিভিন্ন পাকা স্থাপনাসহ বাড়ীঘর উচ্ছেদের উপর ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞাসহ রুলনিশি জারি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মেঘনা তীরবর্তী দত্তপাড়া এলাকার মোস্তাক আহমেদ ভূইয়া ও বৌয়াকুড় এলাকার জহিরুল ইসলাম গং দাখিলকৃত রীট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ নরসিংদী পৌর মেয়রসহ ৭ জনের উপর এই নিষেধাজ্ঞা ও রুলনিশি জারী করেছেন।অন্যান্য বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব, নরসিংদী জেলা প্রশাসক, নরসিংদী পুলিশ সুপার, পৌর মেয়রের প্রতিনিধি, নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড, নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী।

হাইকোর্ট বেঞ্চ বিবাদীদেরকে কারণ দর্শানোর জন্য ৪ সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে নরসিংদী শহরের পাশে হাড়িধোয়া নদী ও মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত হয় নরসিংদী শহর রক্ষা বাধ। এই শহর রক্ষা বাধের মূল পরিকল্পনায় কোন রাস্তা নির্মাণের স্থান রাখা হয়নি। সম্প্রতি নরসিংদীর পানি উন্নয়ন বোর্ড শহর রক্ষা বাধের পাশে ৬ কোটিরও বেশী টাকা ব্যায়ে একটি রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে ‘শামীম কনস্ট্রাকশন’কে ঠিকাদার নিয়োগ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসেন জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তা নির্মাণের উপযোগী করার জন্য বাধের পাশে বিভিন্ন স্থাপনা ও বাড়ীঘর উচ্ছেদ অভিযান চালাতে থাকে। এই  অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ বৌয়াকুড় ও দত্তপাড়া এলাকাবাসী নরসিংদী পৌর কর্তৃপক্ষকে জানায় যে, এই স্থাপনা ও বাড়ীঘরগুলো তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন এবং নিজস্ব ভূ-সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এরপরও পৌর কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বিনা নোটিশে অধিগ্রহণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূ-সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে থাকে।

এই অবস্থায় তারা নরসিংদী জেলা প্রশাসকের নিকট এক অভিযোগপত্রেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা থেকে বিনা অধিগ্রহণ ও বিনা নোটিশে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে কোন প্রকার সাড়া না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাদী মোস্তাক আহমেদ ও জহিরুল হক গং পৃথক পৃথকভাবে হাইকোর্টে দুটি রীট পিটিশন দাখিল করে। এই রীট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী পক্ষের শুনানী শেষে গত ৭ মে হাইকোর্ট বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা ও রুলনিশি জারী করেন।

এব্যাপারে নরসিংদী পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে, তারা কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় উচ্ছেদ  অভিযান চালায় নি। জনস্বার্থে রাস্তা নির্মাণের জন্য অবৈধ দখলদারীদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাছাড়া ব্যক্তিমালিকানা দাবীকারীরা তাদের নকশা, পর্চা অনুযায়ী নির্ধারিত অবস্থানে না থেকে নদীপাড়ের জায়গা দখল করে রেখেছে।