ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

এবার প্যারিসের একমাত্র মুসলিম স্কুল বন্ধ করল ফ্রান্স

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০
  • / 265
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর কঠোরতা আরোপের অংশ হিসেবে এবার প্যারিসের একমাত্র মুসলিম স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে ফরাসি সরকার। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

২০১৫ সালে প্যারিসে মিয়ো হাই স্কুল ও কলেজ (এমনএইচএস) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অফিসিয়ালভাবে প্রতিষ্ঠানটি ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ করলেও এখানে অধিকাংশ মুসলিম শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জানান, ‘আমাদের স্কুলটি সব ধর্ম-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির লোকদের জন্য উম্মুক্ত।’ তিনি আরো বলেন, ‘তাছাড়া আমরা এখানে ধর্ম বিষয়ক কোনো পাঠদান করি না।’

তিনি আরো বলেন, অবশ্য স্কুলের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো, এখানের মেয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ধর্মীয় পোশাক পরতে পারে। ইচ্ছা হলে তারা হিজাবও পরতে পারবে। কারণ আমরা মনে করি, সবাইকে নিজেদের পছন্দের পোশাক পরিধানের সুযোগ দেওয়া উচিত।’

২০০৪ সালে স্কুল প্রাঙ্গণে মুসলিম মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাথা ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি আইন পাশ করে ফরাসি সরকার। স্কুলে প্রবেশকালে সবাই মাথা খুলে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়।

তখন থেকে এমন প্রতিষ্ঠান খুবই কম ছিল যেখানে একজন মুসলিম নারী শিক্ষার্থী নিজ ধর্ম পালন করে শিক্ষাগ্রহণ অব্যাহত রাখতে পারে। আর প্যারিসের স্কুলটি ছিল অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে সবাই নিজের ধর্ম পালন করতে পারে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, স্কুল বন্ধ বিষয়ক শেষ নির্দেশনাকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ বলে আখ্যায়িত করে। স্কুল বন্ধ হলে প্রতিষ্ঠানের ১১০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাবর্ষের মাঝে অন্য কোথাও যেতে পারবে না। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের ১৮জন শিক্ষক ও কর্মচারিরাও কর্মহীন হয়ে পড়বে।

গত ১৭ নভেম্বর স্কুল পরিদর্শনে একদল পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা আসেন। তদন্তের পর স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তকে আইনি বৈধতা দিতে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তায় ত্রুটির অভিযোগে বন্ধের নির্দেশ দেয়। আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখতে অনেক ধরনের সংস্কার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে প্রায় সাড়ে প্রায় ৪৫ লাখ মুসলিম বসবাস করে। ফ্রান্সের দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে দেশটির সরকার। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এবার প্যারিসের একমাত্র মুসলিম স্কুল বন্ধ করল ফ্রান্স

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর কঠোরতা আরোপের অংশ হিসেবে এবার প্যারিসের একমাত্র মুসলিম স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে ফরাসি সরকার। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

২০১৫ সালে প্যারিসে মিয়ো হাই স্কুল ও কলেজ (এমনএইচএস) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অফিসিয়ালভাবে প্রতিষ্ঠানটি ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ করলেও এখানে অধিকাংশ মুসলিম শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জানান, ‘আমাদের স্কুলটি সব ধর্ম-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির লোকদের জন্য উম্মুক্ত।’ তিনি আরো বলেন, ‘তাছাড়া আমরা এখানে ধর্ম বিষয়ক কোনো পাঠদান করি না।’

তিনি আরো বলেন, অবশ্য স্কুলের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো, এখানের মেয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ধর্মীয় পোশাক পরতে পারে। ইচ্ছা হলে তারা হিজাবও পরতে পারবে। কারণ আমরা মনে করি, সবাইকে নিজেদের পছন্দের পোশাক পরিধানের সুযোগ দেওয়া উচিত।’

২০০৪ সালে স্কুল প্রাঙ্গণে মুসলিম মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাথা ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি আইন পাশ করে ফরাসি সরকার। স্কুলে প্রবেশকালে সবাই মাথা খুলে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়।

তখন থেকে এমন প্রতিষ্ঠান খুবই কম ছিল যেখানে একজন মুসলিম নারী শিক্ষার্থী নিজ ধর্ম পালন করে শিক্ষাগ্রহণ অব্যাহত রাখতে পারে। আর প্যারিসের স্কুলটি ছিল অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে সবাই নিজের ধর্ম পালন করতে পারে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, স্কুল বন্ধ বিষয়ক শেষ নির্দেশনাকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ বলে আখ্যায়িত করে। স্কুল বন্ধ হলে প্রতিষ্ঠানের ১১০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাবর্ষের মাঝে অন্য কোথাও যেতে পারবে না। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের ১৮জন শিক্ষক ও কর্মচারিরাও কর্মহীন হয়ে পড়বে।

গত ১৭ নভেম্বর স্কুল পরিদর্শনে একদল পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা আসেন। তদন্তের পর স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তকে আইনি বৈধতা দিতে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তায় ত্রুটির অভিযোগে বন্ধের নির্দেশ দেয়। আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখতে অনেক ধরনের সংস্কার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে প্রায় সাড়ে প্রায় ৪৫ লাখ মুসলিম বসবাস করে। ফ্রান্সের দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে দেশটির সরকার। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

বিডিসংবাদ/এএইচএস