ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাবনায় ইয়াবা-গাঁজাসহ পাঁচ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নেত্রকোনায় সাংবাদিকের ওপর হামলা: তদন্তে মাঠে পুলিশ স্পেনের কাছে হুরজেট বিক্রির সংখ্যা বাড়াচ্ছে তুরস্ক মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আবেগঘন পোস্ট দিলেন অভিনেতা অপূর্ব লেবাননে বিস্ফোরকবাহী ট্রাক জব্দ, কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কামচাতকায় ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কাউকে দমন করা সম্ভব নয়: পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শাহ আমানত বিমানবন্দর: রানওয়েতে দফায় দফায় চুরি নুরের বক্তৃতায় মগবাজার-বাংলামোটর তোলপাড়: মন্তব্য রাশেদ খাঁনের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে জরিমানা গুনলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ

‘জেনোসাইড’ বলতে কী বোঝায়?

  • আপডেট সময় : ০২:০৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / 371
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মালয়েশিয়ার সরকার ও অ্যাক্টিভিস্টরা মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যার অভিযোগ এনেছে৷ মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷

জেনোসাইড – এই ‘টার্ম’ বা শব্দটি প্রায়ই আলোচনায় আসে৷ কোন ঘটনাকে জেনোসাইড বলা হবে, কোনটিকে নয়, কিসের ভিত্তিতেই বা এর সংজ্ঞায়ন হয়, সেই সব বিষয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন জার্মান ইতিহাসবিদ বরিস বার্থ৷ ২০০৬ সালে জেনোসাইডের ইতিহাস নিয়ে তার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে৷

ডয়চে ভেলে: ‘জেনোসাইড’ শব্দটি আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

বরিস বার্থ: পোলিশ-ইহুদি আইনজীবী রাফায়েল লেমকিন ১৯৪৪ সালে প্রথম ‘জেনোসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করেন৷ আউশভিৎস ক্যাম্পে ইহুদিদের উপর যে ধরণের নির্যাতন চালানো হচ্ছিল তার বর্ণনায় ‘অ্যাট্রোসিটি’ বা ‘নির্মমতা’ শব্দটি পর্যাপ্ত নয় বলে মনে হয়েছিল তার৷ হলোকস্ট ছিল সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক অপরাধ, যার জন্য নতুন ‘টার্ম’ বা শব্দের প্রয়োজন ছিল৷ ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের কনভেনশনে ‘জেনোসাইড’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়৷

বর্তমানে জেনোসাইড টার্মটি নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে তা বুঝতে গেলে বিভিন্ন ভাষায় জেনোসাইড শব্দের ব্যবহারের বিষয়টি জানতে হবে৷ জার্মানি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, যদি ইচ্ছে করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা করা হয় তাহলে সেটি ‘জেনোসাইড’ বলে বিবেচিত হতে পারে৷ তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শব্দটি আরও বড় পরিসরে ব্যবহৃত হয়৷ সেখানে এমন ঘটনাকেও জেনোসাইড বলা হয় যেই ঘটনায় হয়ত কেউ প্রাণ হারায়নি৷ আবার অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে দেখুন, সেখানে যখন কর্তৃপক্ষ আদিবাসী শিশুদের তাদের মায়েদের কাছ থেকে নিয়ে নিচ্ছিল তখন বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছিল৷ সেটি অবশ্যই বর্ণবৈষম্যমূলক অপরাধ ছিল৷ অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে ঐ ঘটনা জেনোসাইড বলে পরিচিত, যদিও তখন কেউ মারা যায়নি৷

কী ধরনের ঘটনা ঘটলে জেনোসাইড হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে আলোচনা শুরু করা যায়?

যখন জাতিগত ও ধর্মের কারণে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়৷ একটি দেশ যখন ঘোষণা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় তখন সেটি জেনোসাইড বলে বিবেচিত হতে পারে৷ জাতিসংঘের কনভেনশন তা-ই বলে৷ এই কনভেনশনে অভিযু্ক্ত হিসেবে শুধু দেশের কথা বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি৷

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছে৷ গৃহহীন হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার জন৷ অক্টোবরের ২৭ তারিখে তোলা এই ছবিতে ঐ রাজ্যের একটি গ্রামের বাজার দেখা যাচ্ছে, যেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল৷ শিশুরা সেখান থেকে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করছে৷

জেনোসাইড হয়েছে কিনা তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন কারণ আমাদের এই অপরাধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে৷ একটি দেশ গণহত্যা করছে কিনা তা যাচাই করতে সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে৷

‘জাতিগত নিধন’ শব্দটি সংজ্ঞায়িত করাও কি কঠিন?

এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিধন বিষয়টি সংঘাতপূর্ণ নাও হতে পারে৷ জাতিগত কারণে কোনো দেশে একটি গোষ্ঠীকে অযাচিত মনে হতে পারে৷ অবস্থা সে রকম হলে ঐ গোষ্ঠীকে শান্তিপূর্ণভাবে পুনর্বাসিত করা হতে পারে৷ কিংবা সেটি খুবই বর্বরও হতে পারে, যা গণহত্যার পর্যায়ে পড়তে পারে৷ আসলে সীমারেখা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়৷ তবে ইতিহাস বলছে, জাতিগত নিধন অনেক সময় গণহত্যা পর্যন্ত গড়িয়ে থাকে৷ ডিডব্লিউডি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘জেনোসাইড’ বলতে কী বোঝায়?

আপডেট সময় : ০২:০৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

মালয়েশিয়ার সরকার ও অ্যাক্টিভিস্টরা মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যার অভিযোগ এনেছে৷ মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷

জেনোসাইড – এই ‘টার্ম’ বা শব্দটি প্রায়ই আলোচনায় আসে৷ কোন ঘটনাকে জেনোসাইড বলা হবে, কোনটিকে নয়, কিসের ভিত্তিতেই বা এর সংজ্ঞায়ন হয়, সেই সব বিষয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন জার্মান ইতিহাসবিদ বরিস বার্থ৷ ২০০৬ সালে জেনোসাইডের ইতিহাস নিয়ে তার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে৷

ডয়চে ভেলে: ‘জেনোসাইড’ শব্দটি আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

বরিস বার্থ: পোলিশ-ইহুদি আইনজীবী রাফায়েল লেমকিন ১৯৪৪ সালে প্রথম ‘জেনোসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করেন৷ আউশভিৎস ক্যাম্পে ইহুদিদের উপর যে ধরণের নির্যাতন চালানো হচ্ছিল তার বর্ণনায় ‘অ্যাট্রোসিটি’ বা ‘নির্মমতা’ শব্দটি পর্যাপ্ত নয় বলে মনে হয়েছিল তার৷ হলোকস্ট ছিল সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক অপরাধ, যার জন্য নতুন ‘টার্ম’ বা শব্দের প্রয়োজন ছিল৷ ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের কনভেনশনে ‘জেনোসাইড’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়৷

বর্তমানে জেনোসাইড টার্মটি নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে তা বুঝতে গেলে বিভিন্ন ভাষায় জেনোসাইড শব্দের ব্যবহারের বিষয়টি জানতে হবে৷ জার্মানি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, যদি ইচ্ছে করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা করা হয় তাহলে সেটি ‘জেনোসাইড’ বলে বিবেচিত হতে পারে৷ তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শব্দটি আরও বড় পরিসরে ব্যবহৃত হয়৷ সেখানে এমন ঘটনাকেও জেনোসাইড বলা হয় যেই ঘটনায় হয়ত কেউ প্রাণ হারায়নি৷ আবার অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে দেখুন, সেখানে যখন কর্তৃপক্ষ আদিবাসী শিশুদের তাদের মায়েদের কাছ থেকে নিয়ে নিচ্ছিল তখন বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছিল৷ সেটি অবশ্যই বর্ণবৈষম্যমূলক অপরাধ ছিল৷ অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজিতে ঐ ঘটনা জেনোসাইড বলে পরিচিত, যদিও তখন কেউ মারা যায়নি৷

কী ধরনের ঘটনা ঘটলে জেনোসাইড হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে আলোচনা শুরু করা যায়?

যখন জাতিগত ও ধর্মের কারণে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়৷ একটি দেশ যখন ঘোষণা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় তখন সেটি জেনোসাইড বলে বিবেচিত হতে পারে৷ জাতিসংঘের কনভেনশন তা-ই বলে৷ এই কনভেনশনে অভিযু্ক্ত হিসেবে শুধু দেশের কথা বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি৷

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছে৷ গৃহহীন হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার জন৷ অক্টোবরের ২৭ তারিখে তোলা এই ছবিতে ঐ রাজ্যের একটি গ্রামের বাজার দেখা যাচ্ছে, যেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল৷ শিশুরা সেখান থেকে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করছে৷

জেনোসাইড হয়েছে কিনা তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন কারণ আমাদের এই অপরাধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে৷ একটি দেশ গণহত্যা করছে কিনা তা যাচাই করতে সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে৷

‘জাতিগত নিধন’ শব্দটি সংজ্ঞায়িত করাও কি কঠিন?

এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিধন বিষয়টি সংঘাতপূর্ণ নাও হতে পারে৷ জাতিগত কারণে কোনো দেশে একটি গোষ্ঠীকে অযাচিত মনে হতে পারে৷ অবস্থা সে রকম হলে ঐ গোষ্ঠীকে শান্তিপূর্ণভাবে পুনর্বাসিত করা হতে পারে৷ কিংবা সেটি খুবই বর্বরও হতে পারে, যা গণহত্যার পর্যায়ে পড়তে পারে৷ আসলে সীমারেখা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়৷ তবে ইতিহাস বলছে, জাতিগত নিধন অনেক সময় গণহত্যা পর্যন্ত গড়িয়ে থাকে৷ ডিডব্লিউডি