‘হাসিনা-খালেদা আমার সঙ্গে চিট করেছে’

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আমার সঙ্গে ‘চিট’ করেছে। ফেসবুকে এখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লিখছি। সময় হলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও লিখব। যা লিখছি সবই ঠিক। আমি কোনো ভুল করিনি। আমি একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। যোগ্য লোক হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কেউ আমার মূল্যায়ন করেনি।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্থায়ী কমিটির সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম টিমকে এসব কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. খুরশিদ আলমের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম টিম। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাইবার ক্রাইম টিমের সদস্য অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেছেন, ইরাদ আহমেদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও তথ্য বিকৃতি করে ফেসবুকে প্রচারের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

সাইবার ক্রাইম টিমের সদস্য উপকমিশনার (ডিসি) আলিমুজ্জামান জানান, ইরাদ কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশ ও তথ্য বিকৃতি করেননি- পরিকল্পিতভাবে সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ও কার্টুন প্রকাশ করে। তিনটি ফেসবুক আইডি থেকে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরাদ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে। গত অক্টোবর মাসে এর তদন্তভার দেয়া হয় সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম টিমের ওপর। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত সব তথ্য সাইবার ক্রাইম টিমের কাছে এসেছে।

ডিসি আলিমুজ্জামান আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম টিমের সদস্যরা জানতে পারে যে, বৃহস্পতিবার তিনি তার্কিশ এয়ারলাইন্সে ইস্তাম্বুলে যাবেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে টিমের সদস্যরা বিমানবন্দরে ওঁৎ পেতে থাকে। পরে তাকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জানান, গত সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালি, গাজীপুর ও ঝালকাঠিসহ চার জেলায় মামলা হয়। সাইবার ক্রাইম ইউনিট তাকে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার মামলায় গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্যান্য মামলার বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রিমান্ডে তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান ডিসি আলিমুজ্জামান।

সাইবার ক্রাইম টিমের সদস্য অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে ধ্বংস করতে ইরাদ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন। ফেসবুকে তিনি বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, সরকার এবং সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। ভারত কীভাবে এ দেশের ক্ষতি করছেন তা তিনি তার মতো করে ফেসবুকে তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তার মতে, বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যোগ্য লোকের যোগ্য স্থানে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি যোগ্য স্থানে যোগ্য লোকদের বসাতে পারবেন। তার নিজের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসার ইচ্ছা আছে বলে সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে ইরাদ জানিয়েছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইরাদ জানান, ইস্তাম্বুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিনারে যোগ দিতে তিনি তার্কিশ এয়ারলাইন্সে ইস্তাম্বুলে যাচ্ছিলেন।