পাকিস্তানে মাজারে ২০ জনকে হত্যা করল ‘অপ্রকৃতিস্থ’ প্রধান খাদেম

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের এক মাজারের প্রধান খাদেম ও চার সহযোগী ২০ জনকে হত্যা করেছে। সারোঘার মাজারে আব্দুল ওয়াহেদ নামের ওই প্রধান খাদেম ছুরি ও গদা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

পুলিশ তাকে ‘মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ’ বলে অভিহিত করেছে। জানা গেছে শনিবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে বেচে ফেরা এক নারী পুলিশের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের খবর দেন। ওই নারী ছাড়া আরো তিনজন ওই হত্যাকাণ্ড থেকে জীবিত ফিরতে পেরেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান খাদেম একজন সরকারি কর্মচারী ও লাহোরের বাসিন্দা। পুলিশ কমিশনার লিয়াকত চাত্তা বলেন, কমপক্ষে ১৯টি মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে যার মধ্যে ১৬ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। পরে আরো একজনের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে।

আব্দুল ওয়াহেদকে মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ উল্লেখ করে লিয়াকত বলেন, ওই ব্যক্তি ভক্তদের পিটিয়ে ও নির্যাতন করে পাপমুক্ত করছিল। ঘটনাস্থল থেকে জীবিত ফেরত আসা একজনের বরাতে তিনি বলেন, ভক্তদের টেলিফোন করে ডেকে এনে একজন একজন করে রুমে ডেকে নিয়ে যান। তারপর সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রয়োগ করে ভক্তদের বিবস্ত্র করে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

পাঞ্জাবের আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ৫০ বছর বয়সী ওয়াহেদ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে বলেন তার ধারণা ওই ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করতে এসেছে। সন্দেহভাজন মানসিক রোগে আক্রান্ত বলেই মনে হচ্ছে অথবা মাজারের নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিরোধের কারণে হয়ে থাকতে পারে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ রূপি ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে এবং আহতদের দেয়া হবে ২ লাখ রূপি। ডন ও এএফপি।