রাগীবপুত্র ‘মানসিক রোগী’ নন, বিচার চলবে

সিলেটের আলোচিত শিল্পপতি রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইকে মানসিক রোগী হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে তারাপুর চা-বাগান দখলের মামলার বিচার কাজ বন্ধের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবদুল হাইকে মানসিক রোগী হিসেবে এ দুইটি মামলা থেকে অব্যহিতসহ বিচার বন্ধের জন্য সম্প্রতি রাগীব আলীর আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করেছিলেন। আদালত গতকাল আবদুল হাইয়ের সঙ্গে কথা বলে দেখেছেন যে, তিনি মানসিক রোগী নয়।

বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করতে এ অযৌক্তিক আবেদন করা হয়েছে। তাই আবেদনটি আমলে না নিয়ে আদালত আবেদনটি এখানেই নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলাটি আবার বিচার চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিয়ে নিম্ম আদালতে পাঠিয়েছেন।

এদিকে, আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের মামলায় আসামিপক্ষের দুইজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

সাফাই সাক্ষীরা হলেন, দৈনিক সিলেটের ডাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও রাগীব আলীর ভাতিজা আবদুল হান্নান ও রাগীব আলীর মালিকানাধীন মালনিছড়া চা-বাগানের সহকারী ম্যানেজার মাহমুদ হোসেন চৌধুরী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মো. মাহফুজুর রহমান জানান, আগামীকাল সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা। এর আগে আসামিপক্ষ সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। পরে তারা দুইজনের নাম দিয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন।

সিলেট নগরের উপকণ্ঠ পাঠানটুলায় দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠি জালিয়াতি করে বন্দোবস্ত নেন দৈনিক সিলেটের ডাকের সম্পাদকণ্ডলীর সভাপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই।

এ ঘটনায় ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে রাগীব আলী ও তার ছেলে ওই পত্রিকার সম্পাদক আবদুল হাইকে আসামি করে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করে।

গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারের রায় দেন। এ রায়ে ১৭টি নির্দেশনার মধ্যে এ মামলাটি পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশও দেয়া হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত এক আদেশে পিবিআই পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

১০ জুলাই রাগীব আলী ও ছেলেকে অভিযুক্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

১০ আগস্ট দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ওই দিনই রাগীব আলী সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান। পরে জকিগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় পুলিশ রাগীব আলী ও তার ছেলেকে আটক করে।