ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের

ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বাংলাদেশি রুমানার পদত্যাগ!

  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / 225
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার ৮ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ম্যাগাজিন দি আটলান্টিকে লেখা এক নিবন্ধে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমানা বলেন, ‘আমি হিজাব পরা একজন মুসলমান নারী। মার্কিন প্রশাসনের ওয়েস্ট উইংয়ে আমিই একমাত্র হিজাব পরা কর্মকর্তা ছিলাম। ওবামা প্রশাসন আমাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সর্বদা কাজে উৎসাহ জুগিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও দেশের জন্য কাজ করতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে (এনএসসি) থেকে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র ৮ দিন কাজ করতে পেরেছি। ’

মার্কিন রাজনীতিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য হিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে হোয়াইট হাউসে নিয়োগ পান রুমানা। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। তাকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোয়াইট হাউসে নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরও তিনি হোয়াইট হাউসে থেকে যেতে চেয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, নতুন প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগীদের ইসলাম ও আমেরিকার মুসলিম নাগরিকদের সম্পর্কে আরও সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত করাতেই তিনি নতুন প্রশাসনে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৮ দিনের মাথায় তিনি রণেভঙ্গ দিতে বাধ্য হন।

রুমানা আহমেদ লিখেছেন, বেশিরভাগ আমেরিকান মুসলিমের মতো আমিও ২০১৬ সাল জুড়ে দেখেছি কীভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের সম্প্রদায়কে হেয় করেছেন। এটি সত্ত্বেও, অথবা হয়তো এর কারণেই, আমি ভেবেছি আমার উচিত ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে থেকে যাওয়া। কিন্তু ২৭ জানুয়ারি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর নাগরিকদের নিষিদ্ধ করে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ প্রণয়নের পর আর হোয়াইট হাউসে থাকা সম্ভব বলে তার মনে হয়নি। রুমানা বলেন, আমি জেনে গেলাম আমি আর এই প্রশাসনে থাকতে পারব না বা কাজ করতে পারব না, যে প্রশাসন আমাকে ও আমার মতো মানুষকে নাগরিক হিসেবে দেখে না, দেখে হুমকি হিসেবে। তিনি আরও বলেন, মুসলিমদের প্রতি এই প্রশাসন যে ধরনের আচরণ করছে তা ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের জন্য উপকারী হবে। কারণ, এর ফলে এ জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে রুমানা আহমেদের বাবা মা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বাংলাদেশি রুমানার পদত্যাগ!

আপডেট সময় : ১০:০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার ৮ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ম্যাগাজিন দি আটলান্টিকে লেখা এক নিবন্ধে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমানা বলেন, ‘আমি হিজাব পরা একজন মুসলমান নারী। মার্কিন প্রশাসনের ওয়েস্ট উইংয়ে আমিই একমাত্র হিজাব পরা কর্মকর্তা ছিলাম। ওবামা প্রশাসন আমাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সর্বদা কাজে উৎসাহ জুগিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও দেশের জন্য কাজ করতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে (এনএসসি) থেকে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র ৮ দিন কাজ করতে পেরেছি। ’

মার্কিন রাজনীতিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য হিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে হোয়াইট হাউসে নিয়োগ পান রুমানা। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। তাকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোয়াইট হাউসে নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরও তিনি হোয়াইট হাউসে থেকে যেতে চেয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, নতুন প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগীদের ইসলাম ও আমেরিকার মুসলিম নাগরিকদের সম্পর্কে আরও সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত করাতেই তিনি নতুন প্রশাসনে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৮ দিনের মাথায় তিনি রণেভঙ্গ দিতে বাধ্য হন।

রুমানা আহমেদ লিখেছেন, বেশিরভাগ আমেরিকান মুসলিমের মতো আমিও ২০১৬ সাল জুড়ে দেখেছি কীভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের সম্প্রদায়কে হেয় করেছেন। এটি সত্ত্বেও, অথবা হয়তো এর কারণেই, আমি ভেবেছি আমার উচিত ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে থেকে যাওয়া। কিন্তু ২৭ জানুয়ারি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর নাগরিকদের নিষিদ্ধ করে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ প্রণয়নের পর আর হোয়াইট হাউসে থাকা সম্ভব বলে তার মনে হয়নি। রুমানা বলেন, আমি জেনে গেলাম আমি আর এই প্রশাসনে থাকতে পারব না বা কাজ করতে পারব না, যে প্রশাসন আমাকে ও আমার মতো মানুষকে নাগরিক হিসেবে দেখে না, দেখে হুমকি হিসেবে। তিনি আরও বলেন, মুসলিমদের প্রতি এই প্রশাসন যে ধরনের আচরণ করছে তা ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের জন্য উপকারী হবে। কারণ, এর ফলে এ জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে রুমানা আহমেদের বাবা মা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।