সাত হত্যা: অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিস্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ওই নির্দেশনার অংশ হিসেবে এই মামলার পেপারবুক দ্রুত প্রস্তুতের জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে বলা হয়েছে। আজ রবিবার প্রধান বিচারপতি এ সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন।

এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ ইত্তেফাককে বলেন, ডেথ রেফারেন্সের নথি পাওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে নথি উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি এই পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য অনুমতি দিয়েছেন। এখন আমরা এটি প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠাবো।

আইন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত হলে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিস্পত্তির জন্য দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করতে হবে না। কারণ, ডেথ রেফারেন্স মামলা সালের ক্রম অনুয়ায়ি হয়ে থাকে। বর্তমানে হাইকোর্টের ২০১৩-১৪ সালের ডেথ রেফারেন্সের মামলা চলছে। সেই হিসেবে, সালের ক্রম অনুয়ায়ি হলে ২০২২ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশনা আসায় এখন দুই বছরের মধ্যে এ মামলা নিস্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন সাত খুনের মামলায় র‌্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা লে. কর্ণেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, নৌবাহিনীর  লে. কমান্ডার  মাসুদ রানা, সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়া নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয় আদালত।

১৬২ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, এই মামলায় মোট আসামি ৩৫ জন। যাদের মধ্যে ২৫ জনই সশস্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য। বাকিরা সাধারণ মানুষ। এই অপরাধ সাধারণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মিলে করেছে। এটা একটি জাতির জন্য খুবই কলঙ্কজনক যে, সাধরণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই জঘন্য অপহরণ, হত্যা এবং প্রমাণ গায়েব করার কাজ করেছে। তারা উভয় গ্র“প লাভবান হওয়ার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ সংগঠিত করেছে।

রায়ে আরো বলা হয়, র‌্যাব একটি প্রশংসিত এলিট ফোর্স। র‌্যাব-১১ তে প্রেষণে আসা কিছু উচ্ছৃখল এবং বিবেকবির্জত অপরাধীর কারণে র‌্যাবের সম্মান নষ্ট হতে পারে না। আমাদের কাছে র‌্যাব ‘দায়িত্বশীলতার’ প্রতীক। একই সঙ্গে র‌্যাব সক্ষমতা ও মঙ্গল সাধনের প্রতীক। যাত্রার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের অনেক জাতীয় সংকটে র‌্যাব অনেক সফলতা অর্জন করেছে। র‌্যাবের কর্মকর্তা ও সদস্যরা যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এটা তাদের ব্যক্তিগত দায়। কোনো ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের জন্য পুরো এলিট ফোর্স কোনো ভাবে সমালোচনার শিকার হতে পারে না। তাই কোনো কর্মকর্তা ও সদস্যকে নিয়োগ দেওয়ার আগে কর্তৃপক্ষকে আরো বেশি সজাগ থাকা উচিত।

রায় ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে আসে।