বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা : নতুন লড়াই আজ শুরু

কলম্বোর গরম একটা আলোচ্য ব্যাপার হয়ে পড়েছে। সমুদ্রপাড়ের মারাত্মক আর্দ্রতার সাথে দারুণ উত্তাপ মিলিয়ে ক্রিকেটারদের নাভিশ্বাস অবস্থা। শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা পানি স্বল্পতা, গরম জনিত ক্লান্তির সাথে লড়াই করে খেলেছেন। এই অবস্থায় কলম্বোতে যখন আরেকটা সিরিজ শুরু হচ্ছে আজ, তখন ক্রিকেটের চেয়ে বেশি আলোচনায় ঠাঁই পাচ্ছে গরম।

তারপরও এই গরমের চ্যালেঞ্জ পার করেই আজ থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আজকের খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধা সাড়ে সাতটায়। ৬ এপ্রিল একই সময়ে এই কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি, তথা সফরের শেষ ম্যাচ।  দীর্ঘ সফরে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক পারফরম্যান্সই করছে। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ, দুটোই ড্র করেছে। এখন অপেক্ষা টি-টোয়েন্টি সিরিজের। বাংলাদেশ ওয়ানডে, এমনকি টেস্টেও যথেষ্ট শক্তি দেখাতে শুরু করলেও টি-টোয়েন্টি খেলাটা এখনও বেশ অচেনা রয়ে গেছে। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের দাপট খুব বেশি নয়।

সে হিসেবে এই সিরিজে হয়তো আগের দুই সিরিজের চেয়ে বাংলাদেশকে একটু পিছিয়ে রাখতে হবে।

তবে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই জয় আছে বাংলাদেশের। আর সেই আসরটার কথা মনে করলে মাশরাফির দল একটু অনুপ্রেরণাও পেতে পারে। এই শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেই এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ।

সেই স্মৃতি ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর হলো, টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞরা সবাই ফর্মে আছেন ও সুস্থ আছেন। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা সাব্বির রহমান রুম্মন। তিনি নিজেই বলেন, এটা তার খেলা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের সেই ম্যাচেই ৮০ রানের দানবীয় এক ইনিংস খেলেছিলেন। আছেনও দারুণ ছন্দে। এ ছাড়া সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানরাও ছন্দেই আছেন।

বোলিংয়ে বড় ভরসা হওয়ার কথা ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের। কিন্তু তিনি একটু নিষ্প্রভ। এই ম্যাচে অভিষেক হয়ে যেতে পারে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দেশ থেকে উড়ে যাওয়া তরুণ ক্রিকেটার সাইফুদ্দিনের। শ্রীলঙ্কা দলটাও টেস্ট বা ওয়ানডের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে একটু গোছানো দল। তাদের দলে ফিরেছেন পেস বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। সফরের শুরুর চেয়ে তাদের মিডল ও লেট মিডল অর্ডার এখন বেশি ছন্দে আছে।

বাংলাদেশের জন্য বাজে ব্যাপার হলো, এই প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে কখনোই জেতেনি বাংলাদেশ। এবার তাই ইতিহাস বদলানোর জন্য খেলতে হবে মাশরাফিদের।