ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

অর্ধশতাধিক সংস্কৃতিকর্মীর প্রতিবাদলিপি ও দাবিনামা

  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪
  • / 144
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিনোদন প্রতিবেদক
বাংলাদেশে বাউল-ফকিরদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ ও তাদের সুরক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করার দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি প্রতিবাদলিপি দিয়েছেন ৫৬ জন সংস্কৃতিকর্মী। যাদের মধ্যে রয়েছেন শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার মানুষ।

গত ২৬ জুন সকালে দুর্বৃত্তরা লালন অনুসারী চায়না বেগমের বাড়িঘর ভাঙচুর করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে। এমনকি রাতের আঁধারে সেখানে তাকে পেলে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে ৫৬ সংস্কৃতিকর্মী বলতে চেয়েছেন, ‌‘বিভিন্ন সময়ে আমরা লক্ষ করি যে বাউল, ফকির, সাধকদের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া, তাদের ঘরবাড়ি ও বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করা, তাদের বিতাড়িত করা, সামাজিকভাবে হেয় করাসহ নানান রকমের আগ্রাসন ঘটে। যা মধ্যযুগে, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনামলেও ছিল। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে মানবতাবাদী এই মানুষদের ওপর নির্যাতনের বা আগ্রাসনের ঘটনা মোটেও কাম্য নয়।’

এই সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিশেষ নজর দেয়া উচিত এবং তাদের সুরক্ষার ব্যাপারে আরও গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক।

সংস্কৃতিকর্মীদের কিছু দাবিও রয়েছে এই লিপিতে। সেগুলো হলো-

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: বাউল, ফকির, বয়াতি ও লালন অনুসারীদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

আইনি সুরক্ষা: তাদের ওপর যেকোনও আক্রমণ বা নির্যাতনের দ্রুত বিচার ও শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করা।

সাংস্কৃতিক সম্মান: তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান।

সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ জনগণের মধ্যে বাউল, ফকির, বয়াতি ও লালন অনুসারীদের সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এই প্রতিবাদলিপি ও দাবিনামায় সম্মতি দিয়েছেন যারা-

কুমার বিশ্বজিৎ (সংগীতশিল্পী), কে পি রাজিব (সংগীতশিল্পী), কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় (চলচ্চিত্র নির্মাতা), গৌতম কে শুভ (সংগীত গবেষক), জর্জ লিংকন ডি কস্টা (আর্টসেল), জাভেদ হক (সংগীত পৃষ্ঠপোষক, হেভি মেটাল টি-শার্ট), জিয়াউর রহমান (শিরোনামহীন), জুয়েল কলিন্দ (কবি), প্রবর রিপন (সোনার বাংলা সার্কাস), প্রিন্স মাহমুদ (সংগীতশিল্পী), ফারিয়া উলফাত সৈয়দ (তুলকালাম), বাপ্পা মজুমদার (দলছুট), মনোজ প্রামাণিক (অভিনেতা ও শিক্ষক), মাকসুদুল হক (মাকসুদ ও ঢাকা), মানস চৌধুরী (শিক্ষক ও সাহিত্যিক), মিলু আমান (সংগীত গবেষক), মীর মাসুম (সোলস), মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (চলচ্চিত্র নির্মাতা), রবিউল আলম রবি (চলচ্চিত্র নির্মাতা), রাকিবুল হাসান (সংগীতশিল্পী), রাজিব মাহমুদ শান্ত (সংগীতশিল্পী), রাজু (সহজিয়া), রাশেদ জামান (চিত্রগ্রাহক), রাহুল আনন্দ (জলের গান), রেজাউল করিম লিমন (সংগীতশিল্পী), রুদ্র হক (কবি), সামির আহমেদ (চলচ্চিত্র নির্মাতা), সাদিয়া খালিদ ঋতি (চলচ্চিত্র সমালোচক), সাদিয়া সিরাজ সাবা (সংগীতশিল্পী), সিনা হাসান (বাংলা ফাইভ), সৈকত বিশ্বাস টুটুল (সংগঠক), শঙ্খ দাশগুপ্ত (চলচ্চিত্র নির্মাতা), শফিক তুহিন (সংগীতশিল্পী), শবনম ফেরদৌসী (চলচ্চিত্র নির্মাতা), শর্মি হোসেন (সংগীতশিল্পী), শহীদ মাহমুদ জঙ্গী (গীতিকবি), শাহরিয়ার শাওন (শিল্পী), শারমিন লাকী (আবৃত্তিশিল্পী), শেখ মনিরুল আলম টিপু (ওয়ারফেজ), শিবু কুমার শীল (মেঘদল), শিমুল সালাহউদ্দিন (কবি), অটমনাল মুন (সংগীতশিল্পী), আহমেদ হাসান সানি (সংগীতশিল্পী), আলতাফ শাহনেওয়াজ (সাংবাদিক ও সাহিত্যিক), আমিরুল রাজিব (আর্ট কিউরেটর), জয় শাহরিয়ার (সংগীতশিল্পী), আরিফুর রহমান (চলচ্চিত্র নির্মাতা), আরমীন মূসা (সংগীতশিল্পী), আরজিন (সংগীতশিল্পী), আসিফ ইকবাল অন্তু (সংগীতশিল্পী, কাকতাল), ইয়ন (কবি), ইয়ামিন রহমান ইস্ক্রা (শিক্ষক, সংগীতশিল্পী, স্বরোব্যাঞ্জো), উন্মেষ রায় (শিক্ষক), কনক আদিত্য (শিল্পী) ও কিশোর দাশ (সংগীতশিল্পী)।

বিডিসংবাদ/আতে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অর্ধশতাধিক সংস্কৃতিকর্মীর প্রতিবাদলিপি ও দাবিনামা

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

বিনোদন প্রতিবেদক
বাংলাদেশে বাউল-ফকিরদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ ও তাদের সুরক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করার দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি প্রতিবাদলিপি দিয়েছেন ৫৬ জন সংস্কৃতিকর্মী। যাদের মধ্যে রয়েছেন শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার মানুষ।

গত ২৬ জুন সকালে দুর্বৃত্তরা লালন অনুসারী চায়না বেগমের বাড়িঘর ভাঙচুর করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে। এমনকি রাতের আঁধারে সেখানে তাকে পেলে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে ৫৬ সংস্কৃতিকর্মী বলতে চেয়েছেন, ‌‘বিভিন্ন সময়ে আমরা লক্ষ করি যে বাউল, ফকির, সাধকদের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া, তাদের ঘরবাড়ি ও বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করা, তাদের বিতাড়িত করা, সামাজিকভাবে হেয় করাসহ নানান রকমের আগ্রাসন ঘটে। যা মধ্যযুগে, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনামলেও ছিল। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে মানবতাবাদী এই মানুষদের ওপর নির্যাতনের বা আগ্রাসনের ঘটনা মোটেও কাম্য নয়।’

এই সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিশেষ নজর দেয়া উচিত এবং তাদের সুরক্ষার ব্যাপারে আরও গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক।

সংস্কৃতিকর্মীদের কিছু দাবিও রয়েছে এই লিপিতে। সেগুলো হলো-

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: বাউল, ফকির, বয়াতি ও লালন অনুসারীদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

আইনি সুরক্ষা: তাদের ওপর যেকোনও আক্রমণ বা নির্যাতনের দ্রুত বিচার ও শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করা।

সাংস্কৃতিক সম্মান: তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান।

সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ জনগণের মধ্যে বাউল, ফকির, বয়াতি ও লালন অনুসারীদের সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এই প্রতিবাদলিপি ও দাবিনামায় সম্মতি দিয়েছেন যারা-

কুমার বিশ্বজিৎ (সংগীতশিল্পী), কে পি রাজিব (সংগীতশিল্পী), কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় (চলচ্চিত্র নির্মাতা), গৌতম কে শুভ (সংগীত গবেষক), জর্জ লিংকন ডি কস্টা (আর্টসেল), জাভেদ হক (সংগীত পৃষ্ঠপোষক, হেভি মেটাল টি-শার্ট), জিয়াউর রহমান (শিরোনামহীন), জুয়েল কলিন্দ (কবি), প্রবর রিপন (সোনার বাংলা সার্কাস), প্রিন্স মাহমুদ (সংগীতশিল্পী), ফারিয়া উলফাত সৈয়দ (তুলকালাম), বাপ্পা মজুমদার (দলছুট), মনোজ প্রামাণিক (অভিনেতা ও শিক্ষক), মাকসুদুল হক (মাকসুদ ও ঢাকা), মানস চৌধুরী (শিক্ষক ও সাহিত্যিক), মিলু আমান (সংগীত গবেষক), মীর মাসুম (সোলস), মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (চলচ্চিত্র নির্মাতা), রবিউল আলম রবি (চলচ্চিত্র নির্মাতা), রাকিবুল হাসান (সংগীতশিল্পী), রাজিব মাহমুদ শান্ত (সংগীতশিল্পী), রাজু (সহজিয়া), রাশেদ জামান (চিত্রগ্রাহক), রাহুল আনন্দ (জলের গান), রেজাউল করিম লিমন (সংগীতশিল্পী), রুদ্র হক (কবি), সামির আহমেদ (চলচ্চিত্র নির্মাতা), সাদিয়া খালিদ ঋতি (চলচ্চিত্র সমালোচক), সাদিয়া সিরাজ সাবা (সংগীতশিল্পী), সিনা হাসান (বাংলা ফাইভ), সৈকত বিশ্বাস টুটুল (সংগঠক), শঙ্খ দাশগুপ্ত (চলচ্চিত্র নির্মাতা), শফিক তুহিন (সংগীতশিল্পী), শবনম ফেরদৌসী (চলচ্চিত্র নির্মাতা), শর্মি হোসেন (সংগীতশিল্পী), শহীদ মাহমুদ জঙ্গী (গীতিকবি), শাহরিয়ার শাওন (শিল্পী), শারমিন লাকী (আবৃত্তিশিল্পী), শেখ মনিরুল আলম টিপু (ওয়ারফেজ), শিবু কুমার শীল (মেঘদল), শিমুল সালাহউদ্দিন (কবি), অটমনাল মুন (সংগীতশিল্পী), আহমেদ হাসান সানি (সংগীতশিল্পী), আলতাফ শাহনেওয়াজ (সাংবাদিক ও সাহিত্যিক), আমিরুল রাজিব (আর্ট কিউরেটর), জয় শাহরিয়ার (সংগীতশিল্পী), আরিফুর রহমান (চলচ্চিত্র নির্মাতা), আরমীন মূসা (সংগীতশিল্পী), আরজিন (সংগীতশিল্পী), আসিফ ইকবাল অন্তু (সংগীতশিল্পী, কাকতাল), ইয়ন (কবি), ইয়ামিন রহমান ইস্ক্রা (শিক্ষক, সংগীতশিল্পী, স্বরোব্যাঞ্জো), উন্মেষ রায় (শিক্ষক), কনক আদিত্য (শিল্পী) ও কিশোর দাশ (সংগীতশিল্পী)।

বিডিসংবাদ/আতে