আইএমএফের ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়ে অক্সফামের উদ্বেগ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা
- আপডেট সময় : ১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত এক দশকে ঋণ গ্রহণকারী দেশগুলোর ওপর ব্যয় সংকোচনের যে চাপ প্রয়োগ করেছে, তা চার গুণ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। গত ১০ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, এই ধরনের কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবার মান কমিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অক্সফামের তথ্যমতে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্ষিক মাত্রা ছিল জিডিপির দশমিক ২১ শতাংশ। তবে ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে জিডিপির দশমিক ৮৫ শতাংশে। বিশেষ করে ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় অর্ধেক দেশকে (৫৪টির মধ্যে ২৫টি) আইএমএফ তাদের কর্মসূচি চলাকালীন জিডিপির ২ শতাংশের বেশি সরকারি ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। অথচ ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এই হার ছিল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ (৪২টির মধ্যে ১২টি)।
সংস্থাটির শঙ্কা, আইএমএফ আশির দশকের সেই কঠোর ‘স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট’ বা কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচির দিকে ফিরে যাচ্ছে। অক্সফামের আন্তর্জাতিক জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা নাবিল আবদো এই নীতির সমালোচনা করে বলেন, শুরুতেই কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ দেওয়া অনেকটা কোনো দেশকে একবারে পুরো বোতল বিষ পান করতে বলার মতো, যা অল্প মাত্রাতেও ক্ষতিকর। তিনি ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের পরিবর্তে বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তবে অক্সফামের এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মুখপাত্র জুলি কোজাক জানিয়েছেন, তাদের প্রতিটি ঋণ কর্মসূচিতেই ‘সোশ্যাল স্পেন্ডিং ফ্লোর’ বা সামাজিক ব্যয়ের সীমা অন্তর্ভুক্ত থাকে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় সুরক্ষিত রাখা। এছাড়া কেবল ব্যয় কমানোর ওপর জোর না দিয়ে দেশগুলো কীভাবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর সংগ্রহ বাড়াতে পারে, সেদিকেও আইএমএফ কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইএমএফের এই বৈশ্বিক বিতর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতার জন্যও বেশ প্রাসঙ্গিক। বর্তমানে আইএমএফের ঋণ সহায়তার আওতায় থাকা বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের কাজ করছে। আইএমএফের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় অপ্রয়োজনীয় মূলধনি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতগুলোকে অগ্রাধিকারমূলক ব্যয়ের আওতায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালেও বাংলাদেশে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সীমিত সরকারি অর্থের মধ্যে অগ্রাধিকার সামাজিক ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি আইএমএফের আলোচনায় রয়েছে। জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফর শেষে আইএমএফ জানায়, রাজস্ব আদায় শক্তিশালী করা ও ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে সামাজিক ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে সংস্কারের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিম্ন-আয়ের দেশগুলো সামাজিক সুরক্ষায় জিডিপির গড়ে ০.৮ শতাংশ ব্যয় করে, যেখানে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৪ শতাংশের নিচে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংস্থাটির শঙ্কা, আইএমএফ হয়তো ১৯৮০-এর দশকের সেই কঠোর ‘কাঠামোগত সমন্বয়’ বা স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট কর্মসূচির দিকে ফিরে যাচ্ছে। চাকরির আরও তথ্য: কারণ সরকারি অর্থ সংকোচনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসনসহ মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও ব্যয় বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।






















