আকাশসীমা জটিলতায় আটকে রূপপুরের ইউরেনিয়াম, আসছে বিকল্প পথে
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে আসার কথা ছিল, সেগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চালানটি পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম এই জ্বালানি বিকল্প কোনো রুটে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বা এয়ারস্পেস ক্লিয়ারেন্স-সংক্রান্ত জটিলতায় নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যবহৃত জ্বালানির একটি অংশ পরিবর্তন করতে হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি আসার সময়সীমা এর আগেও দুই দফায় পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। রাশিয়ায় নির্ধারিত কার্গো উড়োজাহাজে জ্বালানি লোড করার পাশাপাশি বাংলাদেশেও চালান গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। শেষ মুহূর্তে এসে রোসাটম চালান পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। তবে ঠিক কোন দেশের আকাশসীমার অনুমতি পাওয়া যায়নি, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিলম্বের ফলে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ বা কমিশনিংয়ের কাজে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, কারণ জ্বালানি লোডিংয়ের পর্যায়ে যেতে এখনও কিছুটা সময় বাকি রয়েছে। রাশিয়া থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পর্যায়ক্রমে সাতটি চালানে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আসবে। আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এগুলো দেশে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও এসব চালানের মাধ্যমে আনা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি যেভাবে কঠোর নিরাপত্তায় আনা হয়েছিল, এবারও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে। কার্গো উড়োজাহাজে করে জ্বালানি প্রথমে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রহরায় বিশেষ যানবাহনে করে তা পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটের সাতটি চালানের জ্বালানি একইভাবে সফলভাবে দেশে পৌঁছানো হয়েছিল।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের প্রথম পারমাণবিক প্রকল্প। এখানে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পুরোদমে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইতোমধ্যে রিঅ্যাক্টরে লোড করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

























