ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষকদের আহ্বান জানালেন এনইউ ভিসি মিরপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, খুলেছে মেট্রোরেলের সব স্টেশন পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন রানওয়ে সংস্কারে এক মাস বন্ধ ইতালির নেপলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সুনামগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা: ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৮ শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে আগুন জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাসংকট নিয়ে ফের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ: মোতায়েন ৫ প্লাটুন বিজিবি

এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষকদের আহ্বান জানালেন এনইউ ভিসি

  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মনোবল না হারিয়ে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। শনিবার ফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি, সেখানকার শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা। কোনোভাবেই তাদের নিরুৎসাহিত না করে বরং সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগানো এখন শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব। শনিবার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফলাফল বিশ্লেষণ ও করণীয় বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের দোষ দিতে চাই না; আমাদের অক্ষমতাগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

উপাচার্য আমানুল্লাহর পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত পাঠদানের বাইরে শনিবারসহ সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশেষ করে যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি পরিমাণে অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়ে বাড়তি সময় দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজ সন্তানের মতো ভেবে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বিনাবেতনে বা কোনো সম্মানী ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের এই সংকটময় মুহূর্তে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আগামী এক থেকে দুই মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আমি মন্ত্রীকে এজন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পাসের হার কমে যাওয়াকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে রাজি নন উপাচার্য। তার মতে, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, এটি তারই সাময়িক প্রভাব। তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন পরীক্ষায় বর্তমানে কঠোর ও মানসম্মত মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে পাসের হারে কিছুটা পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো গাইড করতে না পারার দায়ভার প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকেও বিবেচনা করা উচিত। শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো, গাইড করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা দরকার ছিল, হয়তো আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তা করতে পারিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাস কোর্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষায় পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমেছে এবং অনার্স পরীক্ষায় পাসের হারও ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এই শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ড. আমানুল্লাহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেও এমন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পদ্ধতি প্রবর্তন করে শিক্ষার্থীদের এক বছর অপচয় থেকে মুক্তি দিয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বিশেষ পরীক্ষা এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলে পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ স্থাপন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মান নিশ্চিতকরণ প্রচেষ্টার ফলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বর্তমানে পাসের হারে সাময়িক ওঠানামা দেখা দিলেও, ভবিষ্যতে শিক্ষার মান ও পাশের হার উভয়ই বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খাতা মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া, পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কারণেই ফলাফলে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হতাশ হওয়ার কিছু নেই।”।

নিউজটি শেয়ার করুন

এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষকদের আহ্বান জানালেন এনইউ ভিসি

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মনোবল না হারিয়ে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। শনিবার ফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি, সেখানকার শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা। কোনোভাবেই তাদের নিরুৎসাহিত না করে বরং সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগানো এখন শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব। শনিবার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফলাফল বিশ্লেষণ ও করণীয় বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের দোষ দিতে চাই না; আমাদের অক্ষমতাগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

উপাচার্য আমানুল্লাহর পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত পাঠদানের বাইরে শনিবারসহ সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশেষ করে যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি পরিমাণে অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়ে বাড়তি সময় দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজ সন্তানের মতো ভেবে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বিনাবেতনে বা কোনো সম্মানী ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের এই সংকটময় মুহূর্তে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আগামী এক থেকে দুই মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আমি মন্ত্রীকে এজন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পাসের হার কমে যাওয়াকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে রাজি নন উপাচার্য। তার মতে, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, এটি তারই সাময়িক প্রভাব। তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন পরীক্ষায় বর্তমানে কঠোর ও মানসম্মত মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে পাসের হারে কিছুটা পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো গাইড করতে না পারার দায়ভার প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকেও বিবেচনা করা উচিত। শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো, গাইড করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা দরকার ছিল, হয়তো আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তা করতে পারিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাস কোর্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষায় পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমেছে এবং অনার্স পরীক্ষায় পাসের হারও ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এই শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ড. আমানুল্লাহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেও এমন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পদ্ধতি প্রবর্তন করে শিক্ষার্থীদের এক বছর অপচয় থেকে মুক্তি দিয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বিশেষ পরীক্ষা এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলে পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ স্থাপন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মান নিশ্চিতকরণ প্রচেষ্টার ফলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বর্তমানে পাসের হারে সাময়িক ওঠানামা দেখা দিলেও, ভবিষ্যতে শিক্ষার মান ও পাশের হার উভয়ই বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খাতা মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া, পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কারণেই ফলাফলে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হতাশ হওয়ার কিছু নেই।”।