একই জমিতে বেগুন ও লাউ চাষে সিরাজগঞ্জের লিটনের বাজিমাত
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ধুকুড়িয়া গ্রামের কৃষক লিটন মণ্ডল কৃষি ক্ষেত্রে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি তার ৪০ শতক জমিতে একই সময়ে ‘নয়ন কাজল’ জাতের বেগুনের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় তিনি যেমন ভালো ফলন পাচ্ছেন, তেমনি পাচ্ছেন ন্যায্য বাজারমূল্য। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন এলাকার অন্য কৃষকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
লিটনের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বেগুনগাছ এবং তার ফাঁকে ফাঁকে বেড়ে ওঠা লাউগাছ। তিনি ফসল উৎপাদনে ভার্মি কম্পোস্টসহ বিভিন্ন জৈব সার ব্যবহার করেছেন। বীজ বপন থেকে শুরু করে মাচা তৈরি ও আনুষঙ্গিক পরিচর্যা বাবদ তার এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাজারে ‘নয়ন কাজল’ বেগুনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় তিনি প্রতি সপ্তাহে জমি থেকে ৮ থেকে ১০ মণ বেগুন সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় বাজারে এসব বেগুন বিক্রি করে প্রতি সপ্তাহে তার আয় হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সব খরচ মিটিয়ে চলতি মৌসুমে তিনি ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা নিট মুনাফার আশা করছেন।
মূল ফসলের পাশাপাশি জমির আইল ও সীমানায় ‘হাজারি লাউ’ চাষ করায় বাড়তি কোনো বড় খরচ ছাড়াই অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। লিটনের এই সাফল্য দেখে স্থানীয় কৃষক রফিক, সোবাহান ও সুরুতজামানরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারা আগামী মৌসুমে নিজেরাও একই পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা করছেন। কৃষকদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, জৈব পদ্ধতিতে নয়ন কাজল বেগুন ও সাথি ফসল হিসেবে লাউ চাষ একটি চমৎকার উদ্যোগ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করতে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেলে কৃষকরা এ ধরনের মিশ্র চাষাবাদে আরও বেশি আগ্রহী হবেন। এটি একদিকে যেমন বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে গ্রামবাংলার প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।



















