ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ : নিহতদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে

  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭
  • / 314
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  বিগত দু’দিন যাবৎ ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চন্দনাইশ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধস হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের হিসেব মতে পাহাড় ধস, জলোচ্ছাস, দেয়াল চাপা পড়ে চট্টগ্রামে মহানগরী ও জেলায় সর্বমোট ২৯ জন নিহত হয়েছেন।

নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং ত্রিশ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। আহতদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে নগদ ৫ হাজার টাকা করে। এছাড়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলার জন্য ১০ টন করে ২০ টন, চন্দনাইশ উপজেলার জন্য ৫ টন এবং লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার জন্য ৩ টন করে ৬ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যমতে, ভারী বর্ষণের ফলে রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে ১৬ জন, পাহাড়ি পানির ঢলে ৬ জন, চন্দনাইশে পাহাড় ধসে ৪ জন, রাউজানে পাহাড়ি পানির তোড়ে ১ জন এবং আকস্মিক টর্নেডোয় বাঁশখালীতে ঘরের দেয়াল ধসে ১ জন, চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর হালিশহর ২৬ নং ওয়ার্ডে ঘরের দেয়াল ধসে ১  জনসহ ২৯ জন নিহত এছাড়া, চন্দনাইশে ২ জন, উত্তর হালিশহরের ২৬নং ওয়ার্ডে দেয়াল ধসে ৫ জন, বাঁশখালীতে ২ জনসহ মোট ৯ জন আহত হয়েছেন। এদিকে রাঙ্গুনিয়ায় ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক পাহাড় ধস শুরু হবার পর মহানগর এবং উপজেলাগুলোর পাহাড়ি এলাকা এবং পাহাড় সংলগ্ন অবৈধ বসতিগুলো থেকে প্রায় ৫০০ পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর জানান, ভারী বর্ষণের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়েই চট্টগ্রম মহানগরীর এবং উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশ হতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে ক্রমাগতভাবে ব্যাপক মাইকিং করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এছাড়া, স্থানীয় ক্যাবল টিভি চ্যানেলে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)’গণদের সমন্বয়ে গঠিত ২ টিম চট্টগ্রাম মহানগরীর মতিঝর্ণা, একে খান ও বায়েজিদ এলাকা সহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে দেড় শতাধিক পরিবারকে অর্থাৎ আনুমানিক ৭৫০ জন লোককে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। উপজেলাসমূহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাঙ্গুনিয়ায় ৫৮০ টি পরিবারের ২ হাজার জন, চন্দনাইশে ৫০ টি পরিবারের ২৫০ জনসহ মোট প্রায় ৩ হাজার জনকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও এর আশপাশ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার কাজ এবং উদ্ধার তৎপরতা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে। পাহাড় ধ্বস, জলাবদ্ধতা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে ক্রমাগত ক্ষয়-ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে সময়ে সময়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চট্টগ্রামে মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ : নিহতদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  বিগত দু’দিন যাবৎ ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চন্দনাইশ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধস হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের হিসেব মতে পাহাড় ধস, জলোচ্ছাস, দেয়াল চাপা পড়ে চট্টগ্রামে মহানগরী ও জেলায় সর্বমোট ২৯ জন নিহত হয়েছেন।

নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং ত্রিশ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। আহতদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে নগদ ৫ হাজার টাকা করে। এছাড়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলার জন্য ১০ টন করে ২০ টন, চন্দনাইশ উপজেলার জন্য ৫ টন এবং লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার জন্য ৩ টন করে ৬ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যমতে, ভারী বর্ষণের ফলে রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে ১৬ জন, পাহাড়ি পানির ঢলে ৬ জন, চন্দনাইশে পাহাড় ধসে ৪ জন, রাউজানে পাহাড়ি পানির তোড়ে ১ জন এবং আকস্মিক টর্নেডোয় বাঁশখালীতে ঘরের দেয়াল ধসে ১ জন, চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর হালিশহর ২৬ নং ওয়ার্ডে ঘরের দেয়াল ধসে ১  জনসহ ২৯ জন নিহত এছাড়া, চন্দনাইশে ২ জন, উত্তর হালিশহরের ২৬নং ওয়ার্ডে দেয়াল ধসে ৫ জন, বাঁশখালীতে ২ জনসহ মোট ৯ জন আহত হয়েছেন। এদিকে রাঙ্গুনিয়ায় ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক পাহাড় ধস শুরু হবার পর মহানগর এবং উপজেলাগুলোর পাহাড়ি এলাকা এবং পাহাড় সংলগ্ন অবৈধ বসতিগুলো থেকে প্রায় ৫০০ পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর জানান, ভারী বর্ষণের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়েই চট্টগ্রম মহানগরীর এবং উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশ হতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে ক্রমাগতভাবে ব্যাপক মাইকিং করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এছাড়া, স্থানীয় ক্যাবল টিভি চ্যানেলে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)’গণদের সমন্বয়ে গঠিত ২ টিম চট্টগ্রাম মহানগরীর মতিঝর্ণা, একে খান ও বায়েজিদ এলাকা সহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে দেড় শতাধিক পরিবারকে অর্থাৎ আনুমানিক ৭৫০ জন লোককে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। উপজেলাসমূহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাঙ্গুনিয়ায় ৫৮০ টি পরিবারের ২ হাজার জন, চন্দনাইশে ৫০ টি পরিবারের ২৫০ জনসহ মোট প্রায় ৩ হাজার জনকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও এর আশপাশ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার কাজ এবং উদ্ধার তৎপরতা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে। পাহাড় ধ্বস, জলাবদ্ধতা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে ক্রমাগত ক্ষয়-ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে সময়ে সময়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।