ঢাকা সিটি নির্বাচন: ভোটার এলাকা বদল করলেন আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন
- আপডেট সময় : ০১:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর ফলে আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণ থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের এবং নাসীরুদ্দীন উত্তর থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ এখন উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের আফতাবনগর এলাকার ভোটার। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে যেখানে উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করার পরিকল্পনা ছিল, সেখানে এখন নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দলটি উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ জানান, দলের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি জরিপে উত্তরে তাঁর এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীনের অবস্থান তুলনামূলক ভালো পাওয়া গেছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত দলই নেবে। তিনি আরও জানান, এনসিপি স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে এবং সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নিতে চায়। দলের পরিচিত নেতাদের সম্ভাব্য নির্বাচনী এলাকায় ভোটার করার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এখনই প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি দক্ষিণে ভোটার হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু সে সময় তিনি ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার হওয়ায় নিজের ভোট নিজেই দিতে পারেননি। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি কুমিল্লা-৩ থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হননি। এবার তিনি দক্ষিণের পরিবর্তে উত্তরের ভোটার হয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় এই পরিবর্তন তাদের প্রার্থিতার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো জোট না করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে সমঝোতার সুযোগ খোলা রেখেছে দলটি। তারা ঢাকা উত্তরে মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী ও জোটের সমীকরণ নির্ধারণে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

























