যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে বরফ গলাতে ‘পান্ডা কূটনীতি’ চীনের
- আপডেট সময় : ১২:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 9
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শুল্ক যুদ্ধ, খনিজ সম্পদ, তাইওয়ান এবং ইরান যুদ্ধের মতো জটিল ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছে। দুই দেশের সম্পর্কের এই শীতলতা কাটিয়ে উঠতে বেইজিং তার বহু পুরনো ও কার্যকর কৌশল ‘পান্ডা কূটনীতি’ আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জর্জিয়ার আটলান্টা চিড়িয়াখানায় দুটি বিশালাকার পান্ডা পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের তিক্ততা কমিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দিতে তিনি এই প্রাণীগুলোকে দূত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক আয়োজনে শি জিনপিং জানান, চীনের চেংদুর একটি প্রজনন কেন্দ্র থেকে পিং পিং ও ফু শুয়াং নামের পান্ডা দুটি খুব শীঘ্রই আটলান্টায় পৌঁছাবে। ২০২৪ সালে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেখানকার আগের পান্ডাগুলো চীনে ফিরিয়ে নেওয়ার পর চিড়িয়াখানাটি পান্ডাশূন্য হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও আমেরিকানরা চীনা পান্ডার দেখা পেতে যাচ্ছেন। পান্ডা পাঠানোর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ তরুণ আমেরিকান শিক্ষার্থীকে চীনে শিক্ষা কার্যক্রম ও বিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন শি জিনপিং।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে পান্ডা আদান-প্রদান সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক বেইজিং সফরের পরপরই চীন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে এক জোড়া পান্ডা উপহার দিয়েছিল। তবে ১৯৮৪ সাল থেকে বেইজিং উপহারের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পান্ডা লিজ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো নীতিগত ছাড় না দিলেও, দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক আবহ তৈরি ও কূটনৈতিক বরফ গলাতে বেইজিং এই কৌশলটি সুকৌশলে ব্যবহার করে আসছে।















