ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাশিয়ার কামচাতকায় ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কাউকে দমন করা সম্ভব নয়: পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা ঝুঁকিতে শাহ আমানত বিমানবন্দর: রানওয়েতে দফায় দফায় চুরি নুরের বক্তৃতায় মগবাজার-বাংলামোটর তোলপাড়: মন্তব্য রাশেদ খাঁনের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে জরিমানা গুনলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলা: নিহত ৫ গাজীপুরে ইয়াবাসহ আটক অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ছিনিয়ে নিতে রেলওয়ে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে আট সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী

রাজশাহীর বাজারে কমেছে সবজির দাম, স্বস্তি ক্রেতাদের

  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বৃষ্টি ও মৌসুমী বন্যার রেশ না কাটলেও রাজশাহী মহানগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে।

পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় এখন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চড়া বাজারের চাপে থাকা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার, সাগরপাড়া, নওদাপাড়া, হড়গ্রাম বাজার, মাস্টারপাড়া, লক্ষ্মীপুর কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে সবজির পর্যাপ্ত আমদানি রয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে টাটকা সবজি সরাসরি বাজারে আসায় দাম অনেকটাই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন আগেও যে কাঁচামরিচ ঝাঁজ ছড়িয়ে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা এক লাফে কমে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে।

পটল ৮০টাকা থেকে ৫০টাকা কেজিতে নেমে এসেছে, ঢেঁড়স বাজার ভেদে ৪০ থেকে ৫০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০টাকা কেজি দরে। আর কচু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টাকা কেজিতে। যদিও মাত্র কয়েকদিন আগেই বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১শ’ টাকা কেজি দরে। করলা ও শসা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০টাকা প্রতি কেজি।

বেগুন প্রতি কেজি ৬০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫টাকা কেজি এবং কাঁচা পেঁপে ২০ থেকে ২৫টাকা কেজি। মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০টাকায়। পেয়াজ ও রসুন এবং বিভিন্ন শাকের দামও কম রয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটা সবজির দামই এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে মুরগি, মাছ ও ডিমের দাম বাড়ছে। এসব জিনিসপত্রের দামও যাতে কমে সেই ব্যাপারে ক্রেতারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মফিজুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বাসস’কে বলেন, যা আয় করছিলাম তা সবজি কিনতে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই কিনতে পারছিলাম না। দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।

মাসুমা নামের আরেক এক ক্রেতা বলেন, আমাদের মত অল্প আয়ের মানুষের জন্য বেশি দাম হলে কষ্টকর হয়ে যায়। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই কিনতে পারিনা। সবজির দাম কমে যাওয়ায় সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। সবজির বাজারে এই স্বস্তি বজায় থাকলে আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ভাল হবে।

সবজি বিক্রেতা রমিশ উদ্দিন বাসস’কে বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কম হওয়ায় আমরা কম দামে কিনতে পারছি। সেজন্য আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। আশা করছি সামনে আর দাম নাও বাড়তে পারে।

রাজশাহী মহানগর পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাসস’কে বলেন, এখন সব ধরনের সবজির দাম কম। পানি নেমে যাওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে। তাই সরবরাহ বাড়ায় কম দামে কিনতে পারছি আমরা। উৎপাদন বাড়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বাসস’কে বলেন, ক্ষেত থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। একারণে উৎপাদন স্বাভাবিক হচ্ছে। আশা করছি আগামী দিনে উৎপাদন আরো বাড়বে। এতে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে সবজির দাম।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজশাহীর বাজারে কমেছে সবজির দাম, স্বস্তি ক্রেতাদের

আপডেট সময় : ০৪:২৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বৃষ্টি ও মৌসুমী বন্যার রেশ না কাটলেও রাজশাহী মহানগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে।

পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় এখন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চড়া বাজারের চাপে থাকা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার, সাগরপাড়া, নওদাপাড়া, হড়গ্রাম বাজার, মাস্টারপাড়া, লক্ষ্মীপুর কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে সবজির পর্যাপ্ত আমদানি রয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে টাটকা সবজি সরাসরি বাজারে আসায় দাম অনেকটাই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন আগেও যে কাঁচামরিচ ঝাঁজ ছড়িয়ে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা এক লাফে কমে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে।

পটল ৮০টাকা থেকে ৫০টাকা কেজিতে নেমে এসেছে, ঢেঁড়স বাজার ভেদে ৪০ থেকে ৫০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০টাকা কেজি দরে। আর কচু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টাকা কেজিতে। যদিও মাত্র কয়েকদিন আগেই বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১শ’ টাকা কেজি দরে। করলা ও শসা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০টাকা প্রতি কেজি।

বেগুন প্রতি কেজি ৬০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫টাকা কেজি এবং কাঁচা পেঁপে ২০ থেকে ২৫টাকা কেজি। মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০টাকায়। পেয়াজ ও রসুন এবং বিভিন্ন শাকের দামও কম রয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটা সবজির দামই এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে মুরগি, মাছ ও ডিমের দাম বাড়ছে। এসব জিনিসপত্রের দামও যাতে কমে সেই ব্যাপারে ক্রেতারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মফিজুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বাসস’কে বলেন, যা আয় করছিলাম তা সবজি কিনতে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই কিনতে পারছিলাম না। দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।

মাসুমা নামের আরেক এক ক্রেতা বলেন, আমাদের মত অল্প আয়ের মানুষের জন্য বেশি দাম হলে কষ্টকর হয়ে যায়। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই কিনতে পারিনা। সবজির দাম কমে যাওয়ায় সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। সবজির বাজারে এই স্বস্তি বজায় থাকলে আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ভাল হবে।

সবজি বিক্রেতা রমিশ উদ্দিন বাসস’কে বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কম হওয়ায় আমরা কম দামে কিনতে পারছি। সেজন্য আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। আশা করছি সামনে আর দাম নাও বাড়তে পারে।

রাজশাহী মহানগর পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাসস’কে বলেন, এখন সব ধরনের সবজির দাম কম। পানি নেমে যাওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে। তাই সরবরাহ বাড়ায় কম দামে কিনতে পারছি আমরা। উৎপাদন বাড়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বাসস’কে বলেন, ক্ষেত থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। একারণে উৎপাদন স্বাভাবিক হচ্ছে। আশা করছি আগামী দিনে উৎপাদন আরো বাড়বে। এতে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে সবজির দাম।
বিডিসংবাদ/এএইচএস