ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান

সোনাগাজী এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজে অনিয়মে ভরপুর

  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • / 298
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লাইব্রেরী দখল করে অধ্যক্ষের রাত্রিযাপন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ, ৮ শিক্ষকের কর্মজীবন বিপন্ন

সোনাগাজী ( ফেনী) প্রতিনিধি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভুরি ভুরি অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কারণে নবায়ন হচ্ছে না পাঠদানের স্বীকৃতি, গভর্নিং বডির কমিটির ১৩ জন শিক্ষকের সার্টিফিকের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় কর্ম জীবন বিপন্ন হওয়ার পথে। গভর্নিং বডির কমিটি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের বেতন ও আদার চার্জ বৃদ্ধি, উন্নয়নের অর্থ আত্মসাৎ, কলেজের লাইব্রেরী দখল করে অধ্যক্ষের রাত্রি যাপন, অনিয়মতান্ত্রিভাবে অধ্যক্ষ ও শিক্ষক নিয়োগ, অনিয়মতান্ত্রিক ট্রাস্টের নামে কলেজ পরিচালনাসহ ভুরি ভুরি অনিয়মের মাধ্যমে চলছে সোনাগাজী এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম।

এ নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অন্যদিকে, একটি মহিলা করেজের লাইব্রেরী দখল করে অধ্যক্ষের রাত্রি যাপনের কারণে কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিশ্বময় আলোচিত সোনাগাজীর নুসরাত হত্যা কান্ডের ঘটনার মত কোন ঘটনা ঘটে যায় কিনা এমনটাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী। কলেজের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাসহ নানা অভিযোগ চিহ্নিত করে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জনৈক মাহমুদ হোসেন নামে এক অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নানা অনিয়মের তথ্য। কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্নে স্টেডিয়াম নির্মাণের কথা বলে স্থানীয়দের থেকে অনেকটা কম মূল্যে ট্রাস্টের নামে জমি ক্রয় করা হয়। ২০০৪ সালে কলেজটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।

দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও কলেজটি রহস্যজনক কারণে এমপিওভুক্ত হয়নি। এজন্য একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকের অভিযোগ, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এনায়েত উল্যাহর উদাসীনতাই দায়ী। এমপিওভুক্তি করলে তিনি গভর্নিং বডিতে থাকতে পারবেন না মনে করে তিনি কলেজটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছেন। এমপিওভক্তির জন্য কোন চেষ্টা তদবির করেননি। এলাকাবাসীর দাবি, এনায়েত উল্যাহ সরকারের কর ফাঁকি দিতে বা কালো টাকা সাদা করতেই তিনি কলেজটি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলেজটির গভর্নিং বডির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনিয়মের কারণে গভর্নিং বডির নতুন কমিটির অনুমোদন দিচ্ছে না কুমিল­া শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যাদেরকে অভিভাবক সদস্য মনোনীত করে গভর্নিং বডির কমিটি প্রেরণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩ জনেরই কোন সন্তান ওই কলেজে অধ্যয়নরত নেই। অথচ তাদেরকে অভিভাবক সদস্য মনোনীত করে কমিটি নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কলেজে কর্মরত ১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫ জন শিক্ষককে স্থায়ী নিয়োগ পত্র প্রদান করলেও বাকী ৮ জন শিক্ষককে কোন নিয়োগপত্র দেননি প্রতিষ্ঠাতা। অথচ তারা বছরের পর বছর নামমাত্র বেতনে ওই কলেজে পাঠদান করে যাচ্ছেন। আগামীতে এমপিওভুক্ত হতে গেলেও ওই সব শিক্ষকদের পড়তে হবে চরম বিপাকে। অথচ কর্মজীবনে সুখী, সমৃদ্ধ জীবনের প্রত্যাশায় তারা অপেক্ষা করলেও এমপিওভুক্তির সুফল পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এদিকে, তাদের সার্টিফিকেটে চাকুরী বয়স হয়ে গেছে উত্তীর্ণ।

৬০ বছরের উর্ধ্বে কোন লোক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার বিধান না থাকলেও কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলতি বছরের ১৯ মার্চ ৬৮ বছরের বয়বৃদ্ধ মাইন উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বসিয়ে দেন। তার বাড়ি কুমিল­ার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার এলাকার। তিনি যোগদানের পর হঠাৎ করে নিজের মনগড়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাত্রীদের বেতন ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করে দেন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। কলেজের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত কলেজ লাইব্রেরী দখল করে তিনি শয়ন কক্ষ বানিয়ে রাত্রি যাপন করেন। যেখানে নেই কোন বাথরুম আর শৌচাগার। শিক্ষক কোয়ার্টার বা পুরুষদের জন্য কোন প্রকার শয়ন কক্ষ না থাকলেও লাইব্রেরী গুটিয়ে অধ্যক্ষের শয়ন কক্ষ বানানোর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কাজ না করে আত্মসাতের অভিযোগও যাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, এভাবে চলতে থাকলে কলেজটি এমপিওভুক্তিতো দূরের কথা বাকী জীবনে কখনো আলোর মুখ দেখবে না। কলেজটি আগামীতে সাফল্যের মুখ না দেখার নেপথ্যের জন্য প্রতিষ্ঠাতা এনায়েত উল্যাহকে দায়ী করেছেন। এ ব্যাপারে জানার জন্য প্রতিষ্ঠাতা এনায়েত উল্যাহকে বার বার চেষ্টা করেও তিনি ব্যক্তিগত কাজে বিদেশে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। অনিয়ম অব্যবস্থাপনা আর অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বেশ কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, আগামীতে অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে সুচারুরূপে কলেজটি পরিচালনা করবেন।

প্রতিষ্ঠাতা দেশে ফিরলে তার সাথে আলোচনা করে সকল সমস্যা দূর করবেন। শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে বলেন, কলেজের সব কম্পিউটার বিকল হয়ে গেছে। সেগুলো মেরামত ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পূর্বের থেকে ৫০ টাকা বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। কলেজটির ভবিষ্যত সাফল্য নিয়ে তিনিও হতাশা ব্যাক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে বিপুল সংখ্যক কলেজ একযোগ এমপিওভুক্ত হলেও এই কলেজটি এমপিওভুক্তির তালিকায় নেই। এতে কর্মরত শিক্ষকবৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েছেন। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ফেনী-২ আসনের সংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের সাংসদ লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সোনাগাজী এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজে অনিয়মে ভরপুর

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লাইব্রেরী দখল করে অধ্যক্ষের রাত্রিযাপন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ, ৮ শিক্ষকের কর্মজীবন বিপন্ন

সোনাগাজী ( ফেনী) প্রতিনিধি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভুরি ভুরি অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কারণে নবায়ন হচ্ছে না পাঠদানের স্বীকৃতি, গভর্নিং বডির কমিটির ১৩ জন শিক্ষকের সার্টিফিকের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় কর্ম জীবন বিপন্ন হওয়ার পথে। গভর্নিং বডির কমিটি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের বেতন ও আদার চার্জ বৃদ্ধি, উন্নয়নের অর্থ আত্মসাৎ, কলেজের লাইব্রেরী দখল করে অধ্যক্ষের রাত্রি যাপন, অনিয়মতান্ত্রিভাবে অধ্যক্ষ ও শিক্ষক নিয়োগ, অনিয়মতান্ত্রিক ট্রাস্টের নামে কলেজ পরিচালনাসহ ভুরি ভুরি অনিয়মের মাধ্যমে চলছে সোনাগাজী এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম।

এ নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অন্যদিকে, একটি মহিলা করেজের লাইব্রেরী দখল করে অধ্যক্ষের রাত্রি যাপনের কারণে কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিশ্বময় আলোচিত সোনাগাজীর নুসরাত হত্যা কান্ডের ঘটনার মত কোন ঘটনা ঘটে যায় কিনা এমনটাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী। কলেজের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাসহ নানা অভিযোগ চিহ্নিত করে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জনৈক মাহমুদ হোসেন নামে এক অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নানা অনিয়মের তথ্য। কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্নে স্টেডিয়াম নির্মাণের কথা বলে স্থানীয়দের থেকে অনেকটা কম মূল্যে ট্রাস্টের নামে জমি ক্রয় করা হয়। ২০০৪ সালে কলেজটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।

দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও কলেজটি রহস্যজনক কারণে এমপিওভুক্ত হয়নি। এজন্য একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকের অভিযোগ, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এনায়েত উল্যাহর উদাসীনতাই দায়ী। এমপিওভুক্তি করলে তিনি গভর্নিং বডিতে থাকতে পারবেন না মনে করে তিনি কলেজটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছেন। এমপিওভক্তির জন্য কোন চেষ্টা তদবির করেননি। এলাকাবাসীর দাবি, এনায়েত উল্যাহ সরকারের কর ফাঁকি দিতে বা কালো টাকা সাদা করতেই তিনি কলেজটি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলেজটির গভর্নিং বডির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনিয়মের কারণে গভর্নিং বডির নতুন কমিটির অনুমোদন দিচ্ছে না কুমিল­া শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যাদেরকে অভিভাবক সদস্য মনোনীত করে গভর্নিং বডির কমিটি প্রেরণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩ জনেরই কোন সন্তান ওই কলেজে অধ্যয়নরত নেই। অথচ তাদেরকে অভিভাবক সদস্য মনোনীত করে কমিটি নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কলেজে কর্মরত ১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫ জন শিক্ষককে স্থায়ী নিয়োগ পত্র প্রদান করলেও বাকী ৮ জন শিক্ষককে কোন নিয়োগপত্র দেননি প্রতিষ্ঠাতা। অথচ তারা বছরের পর বছর নামমাত্র বেতনে ওই কলেজে পাঠদান করে যাচ্ছেন। আগামীতে এমপিওভুক্ত হতে গেলেও ওই সব শিক্ষকদের পড়তে হবে চরম বিপাকে। অথচ কর্মজীবনে সুখী, সমৃদ্ধ জীবনের প্রত্যাশায় তারা অপেক্ষা করলেও এমপিওভুক্তির সুফল পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এদিকে, তাদের সার্টিফিকেটে চাকুরী বয়স হয়ে গেছে উত্তীর্ণ।

৬০ বছরের উর্ধ্বে কোন লোক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার বিধান না থাকলেও কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলতি বছরের ১৯ মার্চ ৬৮ বছরের বয়বৃদ্ধ মাইন উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বসিয়ে দেন। তার বাড়ি কুমিল­ার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার এলাকার। তিনি যোগদানের পর হঠাৎ করে নিজের মনগড়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাত্রীদের বেতন ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করে দেন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। কলেজের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত কলেজ লাইব্রেরী দখল করে তিনি শয়ন কক্ষ বানিয়ে রাত্রি যাপন করেন। যেখানে নেই কোন বাথরুম আর শৌচাগার। শিক্ষক কোয়ার্টার বা পুরুষদের জন্য কোন প্রকার শয়ন কক্ষ না থাকলেও লাইব্রেরী গুটিয়ে অধ্যক্ষের শয়ন কক্ষ বানানোর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কাজ না করে আত্মসাতের অভিযোগও যাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, এভাবে চলতে থাকলে কলেজটি এমপিওভুক্তিতো দূরের কথা বাকী জীবনে কখনো আলোর মুখ দেখবে না। কলেজটি আগামীতে সাফল্যের মুখ না দেখার নেপথ্যের জন্য প্রতিষ্ঠাতা এনায়েত উল্যাহকে দায়ী করেছেন। এ ব্যাপারে জানার জন্য প্রতিষ্ঠাতা এনায়েত উল্যাহকে বার বার চেষ্টা করেও তিনি ব্যক্তিগত কাজে বিদেশে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। অনিয়ম অব্যবস্থাপনা আর অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বেশ কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, আগামীতে অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে সুচারুরূপে কলেজটি পরিচালনা করবেন।

প্রতিষ্ঠাতা দেশে ফিরলে তার সাথে আলোচনা করে সকল সমস্যা দূর করবেন। শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে বলেন, কলেজের সব কম্পিউটার বিকল হয়ে গেছে। সেগুলো মেরামত ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পূর্বের থেকে ৫০ টাকা বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। কলেজটির ভবিষ্যত সাফল্য নিয়ে তিনিও হতাশা ব্যাক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে বিপুল সংখ্যক কলেজ একযোগ এমপিওভুক্ত হলেও এই কলেজটি এমপিওভুক্তির তালিকায় নেই। এতে কর্মরত শিক্ষকবৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েছেন। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ফেনী-২ আসনের সংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের সাংসদ লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।