ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শরীয়তপুরে মাদক ও অনুমতিহীন কার্যক্রমের অভিযোগে ৫০ বছরের পুরোনো মেলা বন্ধ গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির বিভেদ ফ্যাসিবাদীদের সুযোগ করে দিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়াল সরকার ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা: নির্বাচনের পরই মিলবে সমাধান কাগজে-কলমে মুনাফা দেখালেও বেবিচকের কাছে বিমানের বকেয়া প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা জাতীয় সংসদে আরও ৪টি স্থায়ী কমিটি গঠন: সম্পন্ন হলো ৫০টি কমিটির যাত্রা ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে বড় চাপে নেতানিয়াহু, ৭ অক্টোবরের সতর্কতা নিয়ে নতুন বিতর্ক মাগুরার শ্রীপুরে অবৈধ সার মজুত: ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও ২৮৮ বস্তা সার জব্দ র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল সংসদে পাস চীনের কিংদাও বন্দরে কার্গো জাহাজে অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ২৫

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, জব্দকৃত ডুবোযানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালাতে সক্ষম।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, জব্দ করা এই যানটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ এটি তৈরি করেছে। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই ড্রোনটি একবার ঘাঁটি থেকে বের হওয়ার পর টানা ১০ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় নামার উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে। অ্যান্ডুরিলের ভাষ্যমতে, এই প্রযুক্তি মূলত সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পানির নিচের পাইপলাইন ও কেবল পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ডাইভ-এলডি ড্রোনের বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ ডলার।

তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি ডুবো ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক দিনেরও বেশি সময় আগে অচল হয়ে পড়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ড্রোনটি পুরোনো মডেলের ছিল এবং এতে কোনো শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না। এমনকি এটি কোনো সংবেদনশীল তথ্যও ধারণ করছিল না বলে পেন্টাগন দাবি করেছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ড্রোনটি কীভাবে ইরানের হাতে পৌঁছাল বা ইরান সেটি জব্দ করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করা হয়নি। রয়টার্সও স্বাধীনভাবে এই ঘটনাটি যাচাই করতে পারেনি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান রুট হিসেবে এটি পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনী মানুষের ঝুঁকি কমাতে চালকবিহীন নৌযান ও ডুবোযানের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ডাইভ-এলডি সেই নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির একটি অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে এমন একটি মার্কিন ডুবোযান চলে যাওয়ার দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই ড্রোনে ব্যবহৃত সেন্সর ও প্রযুক্তি নিয়ে ইরানের গবেষণা দুই দেশের চলমান সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনার প্রভাব হরমুজ প্রণালির বাইরেও অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডুবোযান নিয়ে ইরানের এই দাবি কেবল একটি সামরিক সরঞ্জাম আটকের ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের চলমান সংঘাতে পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কৌশলগত গুরুত্বের একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইরানের এই ‘জব্দ’ করার দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অন্যতম কারণ হলো, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব প্রযুক্তি প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বর্তমান ঘটনায় ইরান আসলে কী ধরনের ডুবোযান জব্দ করেছে এবং সেটির ভেতরের প্রযুক্তি কতটা অক্ষত রয়েছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, জব্দকৃত ডুবোযানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালাতে সক্ষম।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, জব্দ করা এই যানটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ এটি তৈরি করেছে। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই ড্রোনটি একবার ঘাঁটি থেকে বের হওয়ার পর টানা ১০ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় নামার উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে। অ্যান্ডুরিলের ভাষ্যমতে, এই প্রযুক্তি মূলত সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পানির নিচের পাইপলাইন ও কেবল পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ডাইভ-এলডি ড্রোনের বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ ডলার।

তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি ডুবো ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক দিনেরও বেশি সময় আগে অচল হয়ে পড়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ড্রোনটি পুরোনো মডেলের ছিল এবং এতে কোনো শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না। এমনকি এটি কোনো সংবেদনশীল তথ্যও ধারণ করছিল না বলে পেন্টাগন দাবি করেছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ড্রোনটি কীভাবে ইরানের হাতে পৌঁছাল বা ইরান সেটি জব্দ করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করা হয়নি। রয়টার্সও স্বাধীনভাবে এই ঘটনাটি যাচাই করতে পারেনি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান রুট হিসেবে এটি পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনী মানুষের ঝুঁকি কমাতে চালকবিহীন নৌযান ও ডুবোযানের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ডাইভ-এলডি সেই নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির একটি অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে এমন একটি মার্কিন ডুবোযান চলে যাওয়ার দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই ড্রোনে ব্যবহৃত সেন্সর ও প্রযুক্তি নিয়ে ইরানের গবেষণা দুই দেশের চলমান সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনার প্রভাব হরমুজ প্রণালির বাইরেও অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডুবোযান নিয়ে ইরানের এই দাবি কেবল একটি সামরিক সরঞ্জাম আটকের ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের চলমান সংঘাতে পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কৌশলগত গুরুত্বের একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইরানের এই ‘জব্দ’ করার দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অন্যতম কারণ হলো, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব প্রযুক্তি প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বর্তমান ঘটনায় ইরান আসলে কী ধরনের ডুবোযান জব্দ করেছে এবং সেটির ভেতরের প্রযুক্তি কতটা অক্ষত রয়েছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।