ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

হাইকোর্টের আদেশে ফেনী কারাগারে ধর্ষকের সাথে বাদিনীর বিয়ে

  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০
  • / 175
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি:


হাইকোর্টের আদেশে ফেনী কারাগারের সামনে ধর্ষকের সাথে ধর্ষণের শিকার নারীর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে কোন ধর্ষকের সাথে কারা ফটকে বিয়ের ঘটনা দেশে এই প্রথম।


গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট ফেনী জেলা কারাগারের সামনে ধর্ষণ মামলার আসামি জিয়ার সাথে ধর্ষণের শিকার বাদিনীর বিয়ের শর্তে জামিন দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। আদালতের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে আজ ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার যাকে ধর্ষণ করেছিলেন,তাকে বিয়ে করেন ফেনীর সোনাগাজীর বাসিন্দা জিয়াউল হক জিয়া। দুপুর ১২টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারের সামনে জাকঁজমক আয়োজনে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বর কনেসহ দুপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।


জানা গেছে, সকালে দুই পক্ষের লোকজন মিষ্টি নিয়ে জেলা কারাগারের সামনে আসেন। পরে জিয়া ও ভুক্তভোগীর আইনজীবীরা সেখানে আসেন। বিয়ে পড়াতে আসেন জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানসহ কাজী আবদুর রহিম। ৬ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান বলেন, গত ১ নভেম্বর বিয়ে করার শর্তে প্রেমিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় কারাবন্দী জিয়াউল হক জিয়াকে জামিন দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান এর আদালতে জামিন শুনানির পর এই আদেশ দেন। সে লক্ষ্যে আজ ওই তরুণীর সঙ্গে জিয়ার বিয়ে হলো। বিয়ের দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।


এ বিয়েতে জিয়া খুশি বলে জানিয়েছেন। তবে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। এমনকি দুই পরিবারও বিয়ে নিয়ে খুশি বলে জানা গেছে।


গত ২৭ মে জেলার সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের এলাকার এক তরুণীকে ধর্ষণ করেন তার প্রেমিক জহিরুল ইসলাম জিয়া। তার বাবা আবু সুফিয়ান চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। জিয়ার বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী অনশন শুরু করলে তাকে পিটিয়ে ওই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন জিয়ার পিতা সহ তার পরিবারের সদস্যরা। একই দিন ওই নারী জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। চলতি বছরের ২৯ মে জিয়াকে গ্রেপ্তার করে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। পরে জামিনে মুক্তি পেলে ভুক্তভোগীকে জিয়া বিয়ে করবেন, তার পরিবার এ আবেদন পূর্বক আদালতের কাছে জামিন চেয়ে আপিল করে। পরে হাইকোর্ট জিয়ার জামিন না দিয়ে কারা ফটকেই ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজনের জন্য ফেনী কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক কে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। তারই ধারাবাহিতায় আজ জিয়া ও তার প্রেমিকোর বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। ফেনী জেলখানার পুলিশ সুপার আনোয়ারুল করিম জানান, হাইকোর্টের আদেশ ১১ নভেম্বর কারাকর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছলে তারা উভয় পরিবারের সাথে আলোচনা করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন ঘটনার পরও ধর্ষণের শিকার তরুণী বিয়েতে রাজি ছিলেন। কিন্তু ধর্ষক ও তার পরিবারের সদস্যরা রাজি না থাকায় বিয়ে সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে তারা ভুল বুঝতে পেরে বিয়েতে রাজি হন। বিয়ের শর্তেই তারা জামিন আবেদন করেন। হাইকোর্টে আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট ফারুক আলমগীর।


আসামির পিতা ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন আদালতের আদেশের প্রতি আস্থা রেখে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হাইকোর্টের আদেশে ফেনী কারাগারে ধর্ষকের সাথে বাদিনীর বিয়ে

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি:


হাইকোর্টের আদেশে ফেনী কারাগারের সামনে ধর্ষকের সাথে ধর্ষণের শিকার নারীর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে কোন ধর্ষকের সাথে কারা ফটকে বিয়ের ঘটনা দেশে এই প্রথম।


গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট ফেনী জেলা কারাগারের সামনে ধর্ষণ মামলার আসামি জিয়ার সাথে ধর্ষণের শিকার বাদিনীর বিয়ের শর্তে জামিন দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। আদালতের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে আজ ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার যাকে ধর্ষণ করেছিলেন,তাকে বিয়ে করেন ফেনীর সোনাগাজীর বাসিন্দা জিয়াউল হক জিয়া। দুপুর ১২টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারের সামনে জাকঁজমক আয়োজনে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বর কনেসহ দুপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।


জানা গেছে, সকালে দুই পক্ষের লোকজন মিষ্টি নিয়ে জেলা কারাগারের সামনে আসেন। পরে জিয়া ও ভুক্তভোগীর আইনজীবীরা সেখানে আসেন। বিয়ে পড়াতে আসেন জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানসহ কাজী আবদুর রহিম। ৬ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান বলেন, গত ১ নভেম্বর বিয়ে করার শর্তে প্রেমিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় কারাবন্দী জিয়াউল হক জিয়াকে জামিন দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান এর আদালতে জামিন শুনানির পর এই আদেশ দেন। সে লক্ষ্যে আজ ওই তরুণীর সঙ্গে জিয়ার বিয়ে হলো। বিয়ের দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।


এ বিয়েতে জিয়া খুশি বলে জানিয়েছেন। তবে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। এমনকি দুই পরিবারও বিয়ে নিয়ে খুশি বলে জানা গেছে।


গত ২৭ মে জেলার সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের এলাকার এক তরুণীকে ধর্ষণ করেন তার প্রেমিক জহিরুল ইসলাম জিয়া। তার বাবা আবু সুফিয়ান চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। জিয়ার বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী অনশন শুরু করলে তাকে পিটিয়ে ওই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন জিয়ার পিতা সহ তার পরিবারের সদস্যরা। একই দিন ওই নারী জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। চলতি বছরের ২৯ মে জিয়াকে গ্রেপ্তার করে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। পরে জামিনে মুক্তি পেলে ভুক্তভোগীকে জিয়া বিয়ে করবেন, তার পরিবার এ আবেদন পূর্বক আদালতের কাছে জামিন চেয়ে আপিল করে। পরে হাইকোর্ট জিয়ার জামিন না দিয়ে কারা ফটকেই ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজনের জন্য ফেনী কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক কে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। তারই ধারাবাহিতায় আজ জিয়া ও তার প্রেমিকোর বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। ফেনী জেলখানার পুলিশ সুপার আনোয়ারুল করিম জানান, হাইকোর্টের আদেশ ১১ নভেম্বর কারাকর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছলে তারা উভয় পরিবারের সাথে আলোচনা করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন ঘটনার পরও ধর্ষণের শিকার তরুণী বিয়েতে রাজি ছিলেন। কিন্তু ধর্ষক ও তার পরিবারের সদস্যরা রাজি না থাকায় বিয়ে সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে তারা ভুল বুঝতে পেরে বিয়েতে রাজি হন। বিয়ের শর্তেই তারা জামিন আবেদন করেন। হাইকোর্টে আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট ফারুক আলমগীর।


আসামির পিতা ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন আদালতের আদেশের প্রতি আস্থা রেখে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে।