ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মদিনা ফ্লাইটের অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানি: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি হুথিদের মোকাবিলায় ইয়েমেনে চার কার্গো অস্ত্র পাঠালো পাকিস্তান বগুড়ার শেরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক তরুণ হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি সামরিক অভিযান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের ঘটনায় জামায়াত আমিরের প্রতিবাদ শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার: বিমানবন্দর থানায় মামলা মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা ও রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার: নিন্দা ও মুক্তির দাবি জামায়াতের

হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি

  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের দমনে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ রাখা এবং গত মাসে হুতিদের বাব আল মান্দেব প্রণালি দখলের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রিয়াদ এই উদ্যোগ নিয়েছে। অঞ্চলটির পরিস্থিতি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েমেনি বাহিনী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেবে, যাদের সহায়তা করবে সৌদি বিমান বাহিনী। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অথবা নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই অভিযান শুরু হতে পারে। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে আরব জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ইয়েমেনে প্রবেশ করে রিয়াদ।

অভিযানের কৌশল হিসেবে সৌদি আরব দুটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে। প্রথমত, বাব আল মান্দেব প্রণালির আশপাশে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো। দ্বিতীয়ত, আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশসহ ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে বড় ধরনের সমন্বিত আক্রমণ। এই অভিযানের চূড়ান্ত রূপের ওপর ভিত্তি করে প্রায় এক লাখেরও বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি জোটের যে বড় অভিযান ছিল, এবারের প্রস্তুতি তার চেয়ে অনেকটা ছোট ও সুনির্দিষ্ট পরিসরের। অভিযানের পরিসরের ওপর নির্ভর করে এতে ১ লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এটি সৌদির পরিকল্পিত অভিযানের বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত তথ্য। সৌদির প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছয়জন ব্যক্তি অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি। সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি মনে করেন, সম্ভাব্য অভিযানটি সীমিত পরিসরে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অভিযানে গোয়েন্দা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সম্পৃক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, সৌদি আরবকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, তবে মিত্র দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে নামার সম্ভাবনা নেই। ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার সংযোগস্থল বাব আল মান্দেব বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ইরান সংকটে হরমুজ প্রণালি অকার্যকর হয়ে পড়ায় এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। তবে সৌদির মিত্ররা সরাসরি যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেবে বলে মনে হয় না।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব প্রথম হস্তক্ষেপ করেছিল, যখন হুতিরা রাজধানী সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এ বছর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। হুতিরা সৌদি তেল অবকাঠামো ও জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, হুতিরা বাব আল মান্দেবের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না বলে রিয়াদ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, কারণ এই নৌপথের দখল হুতিদের জন্য বড় ধরনের দর-কষাকষির ক্ষমতা তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি

আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের দমনে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ রাখা এবং গত মাসে হুতিদের বাব আল মান্দেব প্রণালি দখলের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রিয়াদ এই উদ্যোগ নিয়েছে। অঞ্চলটির পরিস্থিতি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েমেনি বাহিনী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেবে, যাদের সহায়তা করবে সৌদি বিমান বাহিনী। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অথবা নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই অভিযান শুরু হতে পারে। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে আরব জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ইয়েমেনে প্রবেশ করে রিয়াদ।

অভিযানের কৌশল হিসেবে সৌদি আরব দুটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে। প্রথমত, বাব আল মান্দেব প্রণালির আশপাশে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো। দ্বিতীয়ত, আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশসহ ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে বড় ধরনের সমন্বিত আক্রমণ। এই অভিযানের চূড়ান্ত রূপের ওপর ভিত্তি করে প্রায় এক লাখেরও বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি জোটের যে বড় অভিযান ছিল, এবারের প্রস্তুতি তার চেয়ে অনেকটা ছোট ও সুনির্দিষ্ট পরিসরের। অভিযানের পরিসরের ওপর নির্ভর করে এতে ১ লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এটি সৌদির পরিকল্পিত অভিযানের বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত তথ্য। সৌদির প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছয়জন ব্যক্তি অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি। সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি মনে করেন, সম্ভাব্য অভিযানটি সীমিত পরিসরে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অভিযানে গোয়েন্দা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সম্পৃক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, সৌদি আরবকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, তবে মিত্র দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে নামার সম্ভাবনা নেই। ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার সংযোগস্থল বাব আল মান্দেব বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ইরান সংকটে হরমুজ প্রণালি অকার্যকর হয়ে পড়ায় এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। তবে সৌদির মিত্ররা সরাসরি যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেবে বলে মনে হয় না।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব প্রথম হস্তক্ষেপ করেছিল, যখন হুতিরা রাজধানী সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এ বছর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। হুতিরা সৌদি তেল অবকাঠামো ও জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, হুতিরা বাব আল মান্দেবের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না বলে রিয়াদ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, কারণ এই নৌপথের দখল হুতিদের জন্য বড় ধরনের দর-কষাকষির ক্ষমতা তৈরি করেছে।