নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন: মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 49
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পদের বিপরীতে ধার্য করা মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তীব্র আলোচনার ঝড় উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে একজন প্রার্থীকে ৬ হাজার ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ৫ হাজার ডলার করে ফি জমা দিতে হবে। এছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ৪ হাজার ৫০০ ডলার, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ৩ হাজার ৫০০ ডলার, ট্রেজারার ৩ হাজার ডলার এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি পদের জন্য ২ হাজার ৫০০ ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সম্পাদকীয় পদের জন্য ২ হাজার ডলার এবং ছয়টি এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদের প্রতিটির জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার ফি ধার্য করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার সময় এই অর্থ নগদে পরিশোধ করতে হবে এবং অর্থ গ্রহণের বিপরীতে প্রার্থীকে অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এই উচ্চ ফি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইমিগ্রেশন লয়ার মইন চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, দুই বছর মেয়াদের একটি নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়াতে ৬ হাজার ডলার ফি কেন দিতে হবে? তিনি নির্বাচনে জয়ের কোনো নিশ্চয়তা না থাকা সত্ত্বেও এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং মন্তব্য করেছেন, “এর মধ্যে কি মধু আছে ভাই?” একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট তারিকুল ইসলাম মিঠুও।
বাংলাদেশ সোসাইটি নিজেদের একটি নন-পলিটিক্যাল, নন-প্রফিট এবং নন-রিলিজিয়াস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়। সংগঠনটির ২০২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ওই বছর সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের কোনো বেতন বা কমপেনসেশন ছিল না। একই ফাইলিংয়ে সংগঠনটির মোট আয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬০৭ ডলার এবং ব্যয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫ ডলার দেখানো হয়েছে। এছাড়া ওই বছর সংগঠনটির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৬৭৪ ডলার এবং আয়ের ১০০ শতাংশই ছিল বিভিন্ন অনুদান বা কনট্রিবিউশন।
একটি অলাভজনক সংগঠনের নেতৃত্বের পদগুলো অবৈতনিক হওয়া সত্ত্বেও প্রার্থী হওয়ার জন্য কেন এত উচ্চ ফি নির্ধারণ করা হলো, তা নিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ও কৌতূহল বাড়ছে। মনোনয়ন ফি নির্ধারণের কারণ এবং এই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কমিউনিটির অনেকের নজর এখন নির্বাচনের পরবর্তী ব্যয়ের হিসাবের দিকে। নির্বাচনের পর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে এবং তার বিস্তারিত হিসাব কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে এখন প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কমিশন ও নির্বাহী কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে এসব মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতামত আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি নির্বাচনে মোট খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা নেই।


























